বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আশঙ্কাজনক হারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পাড়া-মহল্লায় এখন মাদকের ছড়াছড়ি, যেন হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বাকেরগঞ্জ পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নজরদারি শিথিল হওয়ার সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ইয়াবা এখন এখানে ‘হট কেকের’ মতো বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি গাঁজা ও দেশি মদের চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক হারে।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরি করে নিরাপদেই চলছে এই অবৈধ কারবার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাকেরগঞ্জের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
এমনকি অনেক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান এবং রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিরাও এই ব্যবসার সাথে জড়িত।
মূলত ঢাকা থেকে নৌপথ ও সড়কপথে মাদকের বড় চালানগুলো বাকেরগঞ্জে আসে। এরপর ডিলারদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় কোনো অভিযান বা কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
মাঝেমধ্যে দুই-একজন খুচরা বিক্রেতা ধরা পড়লেও মূল হোতারা বা ‘গডফাদাররা’ সবসময় আড়ালেই থেকে যায়। এমনকি পুলিশের সোর্সদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
পৌর এলাকার ৪, ৫, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডসহ বাস স্ট্যান্ড, বিআইপি কলোনি এবং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে।
বিশেষ করে পাদ্রীশিবপুরের খ্রিস্টান পাড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ বাংলামদ তৈরি ও বিক্রি হলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদকের মামলা বেশি থাকলেও ২০২৬ সালে এসে মামলার সংখ্যা রহস্যজনকভাবে কমে গেছে।
আরও পড়ুন: বরিশালের অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও দ্রুত বড় অভিযানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, মাদকের মূল উৎপাটন করতে হলে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে।