প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে দখল ও অবৈধ বাঁধে অস্তিত্ব সংকটে গড়িয়াপাড় খাল | প্রিয় বরিশাল দখল ও অবৈধ বাঁধে অস্তিত্ব সংকটে গড়িয়াপাড় খাল | প্রিয় বরিশাল
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

দখল ও অবৈধ বাঁধে অস্তিত্ব সংকটে গড়িয়াপাড় খাল

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

দখল ও অবৈধ বাঁধে অস্তিত্ব সংকটে গড়িয়াপাড় খাল: বরিশালে আমন চাষ নিয়ে চরম ঝুঁকিতে কৃষকরা

বরিশালের যে খাল একসময় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস ছিল, সেই ঐতিহ্যবাহী খালটি এখন চরম দখল আর দূষণে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং একই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে সুপ্রাচীন বরিশালের গৌরবময় ঐতিহ্য।

প্রায় ছয় মাস আগে বরিশালের প্রবেশদ্বার গড়িয়াপাড়ের কলস গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলেন তৎকালীন সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র আহসান হাবিব কামাল।

বর্তমানে খালের একটি বড় অংশ কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যে পড়ায় সেখানে অবৈধ বাঁধ দিয়ে নির্মাণ কাজ করছে একটি সিএনজি পাম্প কর্তৃপক্ষ। সিএনজি পাম্পের কালভার্ট নির্মাণের জন্য সাময়িক বাঁধ দেওয়ায় খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

পাবলিকের বাড়িঘর নির্মাণ ও মাছ চাষের কারণে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা

স্থানীয়রা জানান, কেউ কেউ অল্প জমি কিনে খালের পাড় আটকে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন। অপরিকল্পিত এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে পুরো এলাকায় এখন স্থায়ী ও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

একইভাবে খালের পানি আটকে কেউ অবৈধভাবে মাছ চাষ করছেন, আবার কেউবা পুরো খালটি নিজেদের দখলে রেখেছেন। খালের পানি প্রবাহ না থাকায় ওই এলাকার কয়েকশ কৃষকের আমন ধান চাষের পুরো মৌসুম এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

পানির সংকটের কারণে কৃষকরা ধানের বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না এবং মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। খালটি যে উদ্দেশ্যে খনন করা হয়েছিল, অবৈধ দখলের কারণে তার কোনো উদ্দেশ্যই সফল হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

কৃষি কর্মকর্তার আশ্বাস এবং বিসিসি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিশেষ আহ্বান

খালে পানি না থাকলে স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থা বড় ধরণের হুমকিতে পড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষি দপ্তরের উপ-পরিচালক। কৃষকরা যাতে পানির সঠিক প্রবাহ পায় এবং সেচ কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

ঐতিহ্যবাহী খাল রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অস্বাস্থ্যকর ও অসচেতন মানসিকতার পরিবর্তনের জোর দাবি তুলেছেন বিসিসি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। জনগণ প্রশাসনকে সঠিকভাবে সহযোগিতা না করায় সামান্য বর্ষা হলেই পুরো নগরীতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে দেখা যায়।

একদিকে প্রধানমন্ত্রী নিজে খাল খনন করছেন, অপরদিকে সেই খালেই কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধ বাঁধ দিয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন। নদী ও খাল বাঁচাতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার জোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের ৭ দিনের আলটিমেটাম

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102