প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে দুই বছরেও চালু হয়নি বরিশালের পরিবেশ পরীক্ষাগার | প্রিয় বরিশাল দুই বছরেও চালু হয়নি বরিশালের পরিবেশ পরীক্ষাগার | প্রিয় বরিশাল
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

দুই বছরেও চালু হয়নি বরিশালের পরিবেশ পরীক্ষাগার

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

দুই বছরেও চালু হয়নি পরিবেশ পরীক্ষাগার: বরিশালে বন্ধ পানির জীবাণু পরীক্ষা

বরিশালে আধুনিক ভবন আর প্রয়োজনীয় জনবল থাকলেও দুই বছরেও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরীক্ষাগারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। একসময় অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা গেলেও বর্তমানে যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় তাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কলকারখানার ক্ষতিকর তরল বর্জ্য এবং দূষিত পানি পরীক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে এখন ঢাকায় নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষাগারের নমুনা সংগ্রহকারী জানান, বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।

তবে সংগৃহীত তরল বর্জ্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পাঠানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ঢাকার গবেষণাগারে অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকায় সময়মতো প্রতিবেদন পেতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ ভুক্তভোগীরা।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় জরুরি পরীক্ষাগুলো আমরা ঢাকায় পাঠাতেও সক্ষম হই না। ঢাকার ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে সঠিক সময়ে কোনো ধরনের দূষণবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে গবেষণাগারের একটি স্যাম্পল বা নমুনাও পরীক্ষা করা হয়নি। ল্যাবের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অপ্রতুল থাকা এবং বেশিরভাগ যন্ত্র নষ্ট হওয়াই এর জন্য প্রধান দায়ী বলে কর্মকর্তারা জানান।

আপাতত দক্ষিণাঞ্চলের ভূপৃষ্ঠস্থ এবং ভূগর্ভস্থ দুই ধরনের পানির নমুনা সংগ্রহ ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ বন্ধ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্তাবলী অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ছয় মাস পর পর বাধ্যতামূলকভাবে তরল বর্জ্য পরীক্ষা করাতে হয়।

১০টি বায়ু ও ৯টি বর্জ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে

ল্যাব যদি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে পারত, তাহলে ব্যবসায়ীরা সময়মতো তাদের লাইসেন্স নবায়ন করতে পারতেন। বরিশাল অঞ্চলে আটটি প্রধান নদ-নদী ছাড়াও বায়ু দূষণ পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে।

এছাড়া তরল বর্জ্য পরীক্ষার জন্য বরিশাল বিভাগে আরও নয়টি বড় ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পানি পরীক্ষার সবকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে।

যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় খাবার পানির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু পরীক্ষা করা এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, গত এক দশকেও বাসাবাড়ি থেকে সুপেয় পানির কোনো নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা করা হয়নি।

নলকূপ ও হোটেলের পানি পরীক্ষা বন্ধ এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব

নিয়মিত পরীক্ষা না করায় নগরীতে ক্রমাগত বাড়ছে পানিবাহিত নানাবিধ রোগব্যাধি এবং হুমকিতে পড়ছে সাধারণ জনস্বাস্থ্য। আগে প্রতি সপ্তাহে হোটেল-রেস্তোরাঁ, নলকূপ ও পুকুর থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে গুণগত মান যাচাই করা হতো।

বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এই অচলাবস্থার কোনো ধরনের বড় পরিবর্তনের আশার আলো দেখাতে পারছে না। তবে নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি এলে পুনরায় পানির নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাবে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বলেন, আমরা গবেষণাগারের এই ভয়াবহ সংকট নিরসনে মহাপরিচালক মহোদয়কে জরুরি চিঠি দিয়েছি। একটি নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে খুব দ্রুত ল্যাবের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা স্থাপনের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: কীর্তনখোলা নদীর পানি পরীক্ষার চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্ষতিকর সিসার পরিমাণ

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102