ধান নদী খাল নিয়ে গঠিত ঐতিহ্যবাহী বরিশাল শহর এখন ইট পাথরের শহরে পরিণত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে শত শত বছরের পুরনো খালগুলো আজ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০১০ সালে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরিকল্পনার মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হলেও শহরের আবাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্ল্যানার মো: বায়েজীদ বাইপাস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বাস্তবায়নের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান খালের পাড় খালি রাখার নিয়মগুলো বাস্তবে মোটেই মানা হয়নি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান জানান নগরবাসী বর্তমানে তীব্র নাগরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মাস্টার প্ল্যান না থাকা এবং তা যথাযথ অনুসরণ না করাই এর মূল কারণ।
নগর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু পুকুর ভরাটের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন ১০ হাজার পুকুর ভরাট হওয়ায় শহরে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মহাপরিকল্পনায় প্রায় ৩,৩০০টি পুকুর সংরক্ষণের কথা থাকলেও রাতের আঁধারে ট্রাকে সেগুলো ভরাট করা হয়েছে। সচেতনতার অভাব এবং নগরবাসীর সীমিত সম্পৃক্ততার কারণে এই মহাপরিকল্পনার গতি একেবারেই সন্তোষজনক নয়।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি গঠিত হয়েছে। ভবন নির্মাণ, প্ল্যান পাস ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের বিষয়গুলো এখন তারাই দেখবে।
আরো পড়ুন: কীর্তনখোলা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিপর্যয়