কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ নতুন রূপে সেজে উঠছে। দক্ষিণাঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্টেডিয়ামটির সংস্কার কাজ এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
জানা গেছে, মাঠের সংস্কার কাজের মাত্র ১০ শতাংশ বাকি রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। স্টেডিয়ামের চারপাশে নৈশকালীন খেলার জন্য ৪টি বিশালাকার ফ্লাডলাইট টাওয়ার বসানো সম্পন্ন হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে ফ্লাডলাইটগুলো জ্বলে উঠলে পুরো স্টেডিয়ামটি যেন এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। মাঠে স্থাপন করা নতুন জায়ান্ট স্ক্রিনটিও সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে দেখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের ড্রেসিং রুমের কাজ চলছে।
বরিশাল জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “সংস্কার কাজ এখন একদম শেষের দিকে। হয়তো ১০% কাজ এখন বাকি রয়েছে। খেলোয়াড়দের প্যাভিলিয়নের বক্স এবং ড্রেসিং রুমের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।” মাঠের ঘাস লাগানোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
ক্রীড়া কর্মকর্তা আরও জানান, ফ্লাডলাইটের চেকিং চলছে এবং গ্যালারিতে নতুন চেয়ার বসানো হয়েছে। খেলোয়াড়দের হোস্টেল এবং মিডিয়া বক্সের কাজও খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মূল মাঠের কাজ শেষ হলেই আউটার স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। আউটার মাঠে পাঁচটি নতুন উইকেট এবং একটি শো গ্যালারি নির্মাণ করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা এনএসসির তত্ত্বাবধানে এই বিশাল সংস্কার কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।
সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছে। চলতি বছরই এই মাঠে ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক খেলা গড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মাঠের এই আমূল পরিবর্তন বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
বরিশাল স্টেডিয়ামের নবনিযুক্ত ভেন্যু ম্যানেজার দেবাশীষ বড়ুয়া এ প্রসঙ্গে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাঠ এখনো পুরোপুরি আমাদের আন্ডারে না আসায় নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এই বছরেই স্টেডিয়ামে যেকোনো স্তরের খেলা অনুষ্ঠিত হবে।”
কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানে উন্নতিকরণ ও সুইমিং পুলের জন্য ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় জিমনেশিয়াম এবং ইনডোর নেট প্র্যাকটিসের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা থাকছে। আধুনিক ডরমিটরি এবং গার্ডেনিংসহ একাধিক চোখধাঁধানো উন্নয়নমূলক কাজ এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনে বিসিবির সবুজ সংকেত, পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল