বরিশালের মুলাদীতে নিখোঁজের তিন দিন পর মোহাম্মদ হারুন হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার চড়মালিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
নিহত হারুন হাওলাদারের বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়তেই মূলত মানুষের একটি হাত বেরিয়ে আসে। পরে থানা পুলিশ এসে ওই স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
গত ২৭ জুন রাত থেকে হারুন হাওলাদার সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম শুরুতে এটিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের চাঁদা ও অপহরণ বলে দাবি করেন।
তবে নিহতের ছেলে এইচ এম জাফর হাওলাদার শুরু থেকেই তাঁর মায়ের ওপর সন্দেহ পোষণ করছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মা ও কথিত পরকীয়া প্রেমিক মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ছেলে জাফর হাওলাদার বলেন, “কোনো অসুস্থ মানুষকে ঘর থেকে তুলে নিলে সে অবশ্যই চিৎকার করত। মায়ের কথা বিশ্বাস না হওয়ায় আমি পুলিশকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানাই।”
ছেলের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ গত রাতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে কড়া হেফাজতে নেয়। এরপর পুলিশের বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেন।
নিশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবার ফাঁসিসহ সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তারা এই ঘটনার পেছনে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন না জড়ায়, সেই অনুরোধও করেছেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা বলেন, “আমরা মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
আরও পড়ুন: বরিশাল জেলায় পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে অপরাধ বৃদ্ধির চিত্র