নদীপথের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা আর বিশাল ফাঁকা জমি থাকা সত্ত্বেও বরিশাল শিল্পায়নে বরাবরই পিছিয়ে ছিল। কর্মসংস্থানের খোঁজে প্রতি বছরই হাজারো শিক্ষিত যুবক-যুবতীকে ঢাকা পাড়ি জমাতে হচ্ছে।
তবে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্য বদলাতে বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জনপদে একটি পূর্ণাঙ্গ ইপিজেড নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইপিজেড নির্মাণের এই মহাপরিকল্পনাকে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অপার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন বরিশালবাসী। এর ফলে নিজ জেলাতেই লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বরিশালের এক স্থানীয় তরুণী জানান, গ্রাজুয়েশন শেষ করে কর্মসংস্থানের কারণে সবাইকে ঢাকা যেতে হয়। বরিশালে ইপিজেড বাস্তবায়ন হলে সবাই নিজের এলাকায় থেকেই কাজ করতে পারবে।
সুজন বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম জানান, তারা এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন চান। তিনি বলেন, “আমরা চাই এমন ব্যবস্থা যার মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে শ্রমঘন শিল্পের বিকাশ ঘটুক।”
পদ্মা সেতুর কল্যাণে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় এই প্রকল্প ব্যবসায়ীদের বড় সুবিধা দেবে। বিশেষ করে কাছাকাছি থাকা পায়রা সমুদ্রবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি অনেক সহজ হবে।
রপ্তানিকারক ও শিল্প উদ্যোক্তা আবদুর রহমান বলেন, “নতুন ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলে নেওয়া দরকার। কারণ ওখানে একটা অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এলাকাটি শ্রমিক বান্ধব।”
তবে তিনি অবকাঠামোগত সুবিধার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “ইলেকট্রিসিটি এবং গ্যাস—এই দুইটা ব্যাপারে বর্তমান গভমেন্টের জোর দেওয়া উচিত। কারণ এগুলো ছাড়া নতুন শিল্প গড়া কঠিন।”
এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। শিগগিরই এই মেগা প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে বলে আশাবাদী বিভাগীয় প্রশাসন।
বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবিব বলেন, “শিল্পায়নের দিক থেকে আমরা অনগ্রসর। সে ক্ষেত্রে ইপিজেড হলে অবশ্যই আমাদের অর্থনীতির বিস্তার ঘটবে এবং বেকারত্ব দূর হবে।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের অভাবে বরিশালের ১৯ শতাংশ মানুষ ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে এই ইপিজেড চালু হলে সেই প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পায়রা বন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা