নদীর বুকে বৃষ্টির কলকূজন যেন প্রকৃতির সাথে ঘনঘোর বর্ষার একান্ত আলাপন। তবে এই বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও থেমে নেই বরিশালের বানারীপাড়ার জীবনধারা।
আঁধার ছুঁয়ে আসা নদীপারে একে একে ভিড়ছে পণ্য বোঝাই শত শত কোষা নৌকা। মূলত বেলুয়া নদীতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী বিশারকান্দি ভাসমান বাজার।
এই ভাসমান বাজারে রবি এবং বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দুদিন হাট বসে। ভোর থেকে শুরু হয়ে দুপুরের আগেই মূলত ভেঙে যায় এই ঐতিহ্যবাহী হাট।
ধাপ পদ্ধতিতে চাষ করা বানারীপাড়ার বিভিন্ন ভাসমান ক্ষেত থেকেই এখানে টাটকা সবজি আসে। একহাতে ছাতা ও অন্যহাতে নৌকার হাল ধরে চলছে বেচাকেনা।
বর্তমানে প্রতি হাটে এই ভাসমান বাজারে আট থেকে দশ লাখ টাকার সবজি কেনাবেচা হয়। ফলে স্থানীয় কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতি দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে।
একসময় কেবল আশপাশের লোকজন ক্রেতা হলেও এখন দূর থেকে পাইকাররা ট্রলার নিয়ে আসেন। তাদের হাত ঘুরে সবজি পৌঁছে যায় দেশের নানা প্রান্তে।
হাটে শাপলা, কচি শসা, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচকলা এবং লাউয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। একই সাথে প্রতি ১০০ পিস আখ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায়।
ঝুম বৃষ্টিতে এই হাটে নৌকায় ফেরি করা গরম চিতই পিঠা আর চা যেন অমৃত। মূলত প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও সচল রয়েছে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।
আরও পড়ুন: বরিশালে ভাসমান সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা