বরিশালের উজিরপুরে ৯ বছরের শিশু তামান্না আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নির্মম হত্যার ঘটনার দীর্ঘ দিন পার হলেও এখনো সুষ্ঠু বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় কাঁদছেন এক অসহায় মা।
মূলত, ২০২৪ সালের ৩ মে উজিরপুরের মাদার্শি এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ, মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে প্রতিনিয়ত বাদী পক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি ও মারধর করছে।
এর ফলে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে পুরো পরিবার।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুঃসম্পর্কের খালু সুলতান আহমেদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিকতার শিকার হয় শিশু তামান্না।
অভিযোগ রয়েছে, খালু সুলতান আহমেদ ও খালাতো ভাই ফরিদ আহমেদ তৌহিদ মিলে প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণ এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় র্যাব অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছিল।
তবে সম্প্রতি তারা জামিনে বের হয়ে আসার পর থেকেই মূলত বাদী পরিবারের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে।
আদালতের বারান্দায় অশ্রুসিক্ত মায়ের হাহাকার
নিহত তামান্নার মা তানজিলা বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আজকে আদালতের বারান্দায় বিচারের জন্য ঘুরছি, কিন্তু এখনো সঠিক বিচার পাচ্ছি না।
আমার স্বামী মেয়ের শোকে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং কোনো কাজ করতে পারছেন না।
উল্টো আসামিরা আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে এবং মারধরও করেছে।”
মূলত, আসামিদের এমন বেপরোয়া আচরণে পুরো পরিবারটি এখন স্তব্ধ।
“একটা গেছে, আরেকটা যাবে”—বাদীর পরিবারকে অবিরত হুমকি
এদিকে, নিহতের স্বজন ও ভাই-বোনদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক বোন দাবি করেন, “আসামিরা আমাদের কলার ধরে মারধর করে হুমকি দেয় যে, তোর একটা বোন গেছে, আরেকটা যাবে!
প্রধান আসামির জামিন বাতিল হওয়ার দিন আমাকে বাড়িতে একা পেয়ে তারা হত্যার চেষ্টা করে এবং বেধড়ক মারে।
আমি কোনোমতে জীবন নিয়ে পালিয়েছি।
আমার আরও দুটি বোন আছে, আমি তাদের নিয়ে বাঁচতে চাই।”
তদন্তে পাশবিকতার সত্যতা ও চার্জশিট দাখিল
উল্লেখ্য যে, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ (DNA) রিপোর্ট এবং স্থানীয় তদন্তে তামান্নার ওপর পাশবিকতা ও অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পায় পুলিশ।
এরপর গত বছরের ২৯ এপ্রিল আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক এআইএম তৌহিদুল করিম।
মূলত, বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ মেলায় এই মামলাটি এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
প্রধান আসামির জামিন বাতিল, পরবর্তী সাক্ষ্য ২৫ জুন
অন্য দিকে, বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আশরাফুল ইসলাম মামলার প্রধান আসামির জামিন বাতিল করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছেন।
আদালতে ইতিমধ্যে বাদীসহ তিনজন গুরুত্বপূর্ণ (ভাইটাল) সাক্ষী তাদের সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়েছেন।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালত আগামী ২৫ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে বাকিদের সাক্ষ্য ওই দিন নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, শিশু সুরক্ষা আইন ও আদালতের সব শেষ খবর