পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে।
তবে দেশের সব বিভাগীয় শহরে রেল যোগাযোগ থাকলেও একমাত্র বরিশাল বিভাগ এখনও রেললাইনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
আট বছর আগে বরিশালে রেল সংযোগের এক মহাপরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বর্তমানে কার্যত থমকে আছে।
এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বিআরটিএ-এর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, মূলত পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে গাড়ির আধিক্য অনেক বেড়েছে।
কুয়াকাটা একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সড়কের পাশাপাশি অবশ্যই রেলপথের প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এই অঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত রেল প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।
বাড়িতে বাড়িতে লাল কালির দাগ: চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেল প্রকল্পের জন্য সরকার থেকে যে সমস্ত জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘরে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তারা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।
বছরের পর বছর ধরে প্রকল্প স্থগিত থাকায় ওইসব ভুক্তভোগী মানুষ না পারছেন তাদের জমি বিক্রি করতে, না পারছেন ঘরের কোনো সংস্কার কাজ করতে।
বরিশালে রেলের নিজস্ব কোনো দপ্তর না থাকায় অসহায় মানুষ প্রতিকারের আশায় বিআরটিএ কিংবা সড়ক বিভাগের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বিআরটিএ পরিচালকের বক্তব্য ও রেলের গুরুত্ব
বিআরটিএ-এর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, মূলত বরিশাল নদীমাতৃক অঞ্চল হওয়ায় এখানে রেলপথ হলে মানুষের সুবিধা সবচেয়ে বেশি বাড়তো।
কারণ রেললাইনে মানুষ অত্যন্ত আরামদায়কভাবে এবং কম খরচে যাতায়াত করতে পারে। এই পথ দিয়ে পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা এবং ইদানীং সাতক্ষীরা ও খুলনার গাড়িও যাতায়াত করে।
বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশে সড়কের আগে রেলের উন্নয়ন করা হয়, তাই বরিশালকে বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।
কবে হবে ফরিদপুর-কুয়াকাটা ৬ লেনের মহাসড়ক?
এদিকে, বর্তমানের সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ দুই লেনের মহাসড়কটি কবে ৬ লেনে উন্নীত হবে—তা নিয়েও নগরবাসীর প্রশ্নের শেষ নেই।
এই বিষয়ে জিয়াউর রহমান জানান, ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২১২ কিলোমিটারের একটি ৬ লেনের সড়ক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে এই প্রকল্পটি ইআরডিতে (Economic Relations Division) রয়েছে।
মূলত, উপযুক্ত কোনো ডোনার বা অর্থায়নকারী সংস্থা পেলেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু করা সম্ভব হবে।
অন্য দিকে, সরকারি এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে অবিলম্বে বরিশালবাসীকে রেল কানেক্টিভিটির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।
মুখরোচক আশ্বাসের আড়ালে যেন বরিশালবাসীর এই লাল কালির ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়, সেদিকে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
মূলত, রেলপথের আধুনিকায়ন ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তি অসম্ভব।
আরও পড়ুন: ফরিদপুর-কুয়াকাটা মহাসড়ক উন্নয়ন, বিআরটিএ-এর নতুন নির্দেশনা ও বরিশালের সব শেষ খবর