খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বাড়াতে গিয়ে অনেক হোটেল ব্যবসায়ী অজান্তেই সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।
মূলত, তরকারিতে কৃত্রিম ম্যাজিক মসলার অতিরিক্ত ব্যবহার সাময়িকভাবে খাবারের স্বাদ বাড়ালেও তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সম্প্রতি বরিশাল নগরীর চাঁদমারি এলাকায় অবস্থিত ‘মনোয়ারা হোটেল’-এর খাবারে এমনই কৃত্রিম মসলার ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে।
এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের স্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বরিশাল হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের পাশে অবস্থিত এই মনোয়ারা হোটেল।
সেখানে পাটের শাক, ডাল, পুঁইশাক ও লাউসহ প্রতিদিনের সবজি আয়োজনের স্বাদ নিয়ে বেশ চর্চা রয়েছে।
গত ১ জুন দুপুরে ‘প্রিয় বরিশাল’ টিম সেই খাবার খাওয়ার পর তাদের তীব্র এসিডিটি ও হজমের সমস্যা দেখা দেয়।
পরদিন খাবারের মান ও রান্নায় অতিরিক্ত স্বাদের রহস্য নিয়ে জানতে চাইলে হোটেলের স্বত্বাধিকারী মনোয়ারা প্রথমে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন।
তবে সাধারণ রান্নায় এত স্বাদের রহস্য এবং ‘ম্যাজিক মসলা’ ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অকপটে স্বীকার করেন।
কৃত্রিম মসলার অতিরিক্ত ব্যবহার ও এর মারাত্মক কুফল
চিকিৎসকদের মতে, তরকারিতে কৃত্রিম ম্যাজিক মসলার অতিরিক্ত ব্যবহার বা নিয়মিত এটি খাওয়া শরীরের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়।
মূলত, এসব কৃত্রিম মসলায় প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) এবং বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ থাকে।
এর ফলে মানবশরীরে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে।
একই সাথে, এটি নিয়মিত খেলে লিভারের কার্যকারিতাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ম্যাজিক মসলার প্রধান প্রধান ক্ষতিকর দিক:
অন্য দিকে, হোটেল মালিক মনোয়ারার দাবি—এই খাবার তাঁর নিজের পরিবারও খেয়ে থাকে।
তবে সচেতন মহল বলছেন, নিজের পরিবার খেলেও কৃত্রিম উপাদানের ক্ষতিকর দিকগুলো কখনো বদলে যায় না।
মুখরোচক স্বাদের আড়ালে সাধারণ মানুষকে যেন এক প্রকার নীরব বিষ খাওয়ানো না হয়, সেদিকে ফুড সেফটি অথরিটির নজর দেওয়া জরুরি।
মূলত, জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে নগরীর ভাতের হোটেলগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযানের সর্বশেষ খবর