দীর্ঘ ৪৮ বছর পর আবারও বরিশালের মাটিতে গুঞ্জন তুলতে শুরু করেছে কাজের মৌমাছি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকা এই প্রকল্পে প্রাণ ফিরে আসায় উদ্যোক্তারা অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি বর্তমানে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছে।
২০২৩ সালে বরিশালের বিসিকের উদ্যোগে স্থানীয় বেশ কয়েকজন আগ্রহী ব্যক্তিকে মৌমাছি পালনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত আটজন নতুন উদ্যোক্তার হাতে বর্তমানে মোট ৩৫টি মৌচাকের সফল যাত্রা শুরু হয়েছে। কেউ সংসারের তাগিদে, কেউ পড়াশোনার ফাঁকে আবার কেউ চাকরির পাশাপাশি এই লাভজনক পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে মৌচাক স্থাপন, পরিচর্যা এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সার্বিক সহযোগিতা করছেন বিসিকের দক্ষ শ্রমিকেরা। বিসিকের দক্ষ কর্মী কাওছার হোসেন রাসেল জানান যে, ক্ষতিকর ভিমরুল তাড়ানো এবং ভাইরাসের আক্রমণ রোধে তারা নিয়মিত নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
বরিশাল বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, উদ্যোক্তাদের মাঠে নিয়ে সরাসরি প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেওয়ার ফলে তাদের সফলতা এসেছে। মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তাদের ব্যবহৃত মৌবাক্সগুলোর সংখ্যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
একসময়ের শুধু সরকারি কাগজে অস্তিত্ব থাকা এই প্রকল্প থেকে এখন নিয়মিতভাবে খাঁটি মধু উৎপাদিত হচ্ছে। বিসিকের এই মহৎ উদ্যোগ সফল হলে বরিশালের বেকারত্ব দূর হয়ে অসংখ্য পরিবারের অর্থনৈতিক চিত্র চিরতরে বদলে যাবে।
আরও পড়ুন: বিসিকের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বরিশালের যুবসমাজ কীভাবে মৌমাছি পালনে স্বাবলম্বী হচ্ছে