গত এক দশকের মধ্যে এবারই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এ বছরই সর্বোচ্চ সংখ্যক নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষার চূড়ান্ত ফরম পূরণ করেননি বলে জানা গেছে। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির পেছনে বিদ্যমান লেখাপড়ার পদ্ধতি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ৩৫০টি কলেজের শিক্ষার্থী। তবে এবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সব মিলিয়ে অনুপস্থিত রয়েছে প্রায় ৫,৩৩৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার ৫,৬৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার চূড়ান্ত ফরমই পূরণ করেননি বলে বোর্ড জানিয়েছে।
বিগত দশ বছরের মধ্যে এবারই বোর্ডটিতে পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ও আশঙ্কাজনক। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের এভাবে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হার শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। পরীক্ষা নকলমুক্ত হওয়ায় অনেকে পাস করার সাহস না পেয়ে কেন্দ্রে যায়নি বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
কর্মকর্তারা বলেন, পড়াশোনা না করে হলে যাওয়া যাবে না ভেবে অনেকে ফরম ফিলাপ করেনি। শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, অনেক শিক্ষার্থী বিগত পরীক্ষায় তিন বা চারটি সাবজেক্টে ফেল করেছিল। তারা হয়তো অনুধাবন করেছে যে এবার হলে গিয়ে অন্যায় কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ভালো প্রস্তুতি নিয়ে আগামীবার পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেও অনেকে এবার অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত পরিবেশ বর্তমানে একেবারেই নেই। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার সঠিক পরিবেশ না পাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঝপথেই ঝরে পড়ছে বলে অভিভাবকরা দাবি করেন।
পড়াশোনার দুর্বলতা নাকি অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে তা বোর্ড গভীরভাবে তদন্ত করবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার সব মিলিয়ে মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১২২টি। ঝরে পড়া রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।