বরিশালে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সদস্যের ওপর অমানবিক নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার রিহ্যাব সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ঘটনার বিচার দাবিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব সভাপতি ড. মো. আলী আফজাল।
রিহ্যাব সভাপতি ড. মো. আলী আফজাল নির্যাতিত ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।” সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি জানান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ভিডিও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভিডিওতে যে দৃশ্যগুলো দেশবাসী দেখেছেন তা নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর বড় আঘাত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করায় রিহ্যাব ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
তবে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা চলায় রিহ্যাব সভাপতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠছে বলে তিনি জানান। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে তিনি মনে করেন।
রিহ্যাব সভাপতি বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশের ডিআইজি মহোদয়কে একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। যাতে তারা কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।
রিহ্যাব দেশের আবাসন খাতের একমাত্র সর্ববৃহৎ এবং সরকার অনুমোদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংগঠন। এ খাতের উদ্যোক্তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। এই আবাসন সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রিহ্যাব সভাপতি জানান, আবাসন সেক্টরের মাধ্যমে তারা দেশের জিডিপিতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ পার্সেন্ট কন্ট্রিবিউট করে থাকেন। এ খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব বা ট্যাক্স পেয়ে থাকে। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ২০ শতাংশের বেশি আবাসন খাতে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে আসে।
আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর সাথে সম্পৃক্ত ২৬৯টি সাপোর্ট ইন্ডাস্ট্রি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। রড ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পের মেইন কাস্টমার আবাসন খাত হওয়ায় পুরো অর্থনীতি সংকটে পড়বে। অনেক ব্যাংক ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়বে এবং ৫০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে রাষ্ট্রের ওপর বড় বোঝা হবে।
গণমাধ্যমে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা হলেও রিহ্যাব অপরাধকে কেবল অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করে। অপরাধী যে মত বা দর্শেরই হোক না কেন, তার পরিচয় নয়, কর্মকাণ্ডই বিচার্য হওয়া উচিত। রিহ্যাব সভাপতি আবাসন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: বরিশালে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় রিহ্যাবের তীব্র নিন্দা ও আলটিমেটাম