আগামীকাল থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তবে এর মধ্যেই তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভয়াবহ এই লোডশেডিংয়ের চিত্র বর্তমানে পুরো ঝালকাঠি জেলার সর্বত্রই সমানভাবে দেখা যাচ্ছে। দিন এবং রাতের বেশিরভাগ সময়ই জেলাজুড়ে কোনো বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানা গেছে।
তীব্র গরম এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎহীনতার কারণে ছোট এই শহরটি সন্ধ্যার পর ভূতের নগরীতে পরিণত হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।
এক পরীক্ষার্থী জানান, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ও পানির সংকটে পড়ালেখা করা যাচ্ছে না। গভীর রাতে ঘুমানোর পর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো এলাকার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহের চরম ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর অস্বাভাবিক ভূতের বিল সাধারণ মানুষের কাছে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে।
ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান এই সংকটের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি না, আমরা শুধুমাত্র একটি বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। পিডিবি ও পিজিসিবির মাধ্যমে যেভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়, আমরা সেটুকুই বণ্টন করার চেষ্টা করি।”
এদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ইতিমধ্যে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস ও আসন্ন লোডশেডিং মোকাবিলার নতুন সরকারি পরিকল্পনা