সাগরকন্যা কুয়াকাটা ও বরিশাল বিভাগের চার জেলা খুব শীঘ্রই সরাসরি রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে চলেছে। দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথের সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ভাঙ্গা থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত মোট ২৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বরিশালে একটি মাল্টিমোডাল হাব এবং ১৯টি বড় রেল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া কীর্তনখোলা ও পায়রা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে মোট ৪৬টি বড় সেতু নির্মাণ করা হবে।
১৭ কিলোমিটার নিচু জমিতে উড়াল রেলপথ এবং কোনো ক্রসিং ছাড়াই ট্রেন চলাচলের জন্য আন্ডারপাস থাকবে। ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পে সরকার এখন আন্তর্জাতিক অর্থের উৎস খুঁজছে।
সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “যেহেতু ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে, আমরা এখন দ্রুত অর্থসংস্থানের দিকে চিন্তাভাবনা করছি।”
রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, “পায়রা পোর্টের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর করতে হবে।” ফরোয়ার্ড এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংক তৈরি না হলে এত বড় বিনিয়োগ ঋণের বোঝা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান এবং ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের মধ্যে মেলবন্ধন না হলে উপযোগিতা তৈরি হবে না। তাই রেলপথ তৈরির পাশাপাশি জেলাভিত্তিক অর্থনৈতিক বিকাশের পরিকল্পনাও একই সাথে গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ও ভোলা ছাড়া বাকি সব জেলা যুক্ত হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা জেলাগুলোতে নতুন সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বরিশাল বিভাগের চার জেলায় রেলওয়ের মাল্টিমোডাল হাব ও জোন ভিত্তিক ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান