বরিশালে নিয়মিত গ্রেপ্তার ও মামলা দিয়েও কোনোভাবেই মাদকের কেনাবেচা কমানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামিন পেয়ে আবার একই কাজ শুরু করছেন। ফলে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না বলে পুলিশ প্রশাসন মনে করে।
মাদক বিক্রির টাকার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বে মে মাসের মাঝামাঝিতে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। এর আগে বাকেরগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ায় একই কারণে আরও দুটি খুনের ঘটনা ঘটে।
মাদকের দ্বন্দ্বে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও কারবার আগের মতোই পুরোদমে সচল রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অভিযোগের শেষ নেই। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, “ওপেনেই তারা বিক্রি করে, কারো কিছু বলার সাহস নাই।” তারা আরও জানান, “যদি দুই-একজন ধরে, আরও পাঁচ-ছয়জন বেচা শুরু করে।” গত এক বছরে অন্তত ৩ হাজার অভিযানে ১২ শর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের অর্ধেকের বেশি মানুষ একাধিকবার মাদক কেনাবেচার দায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “গত দেড় বছরে প্রায় ১০০ কেজির উপরে আমরা গাঁজা উদ্ধার করেছি।” এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিউজ পরিমাণে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করেছে।
কর্মকর্তারা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক ব্যক্তি বারবার ধরা পড়ছে। মাদক মামলায় এভাবে বারবার রিপিট আসামির সংখ্যা দিন দিন অনেক বেশি হচ্ছে। পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসার জন্য নগরীতে অন্তত চারটি বড় চিহ্নিত জায়গা রয়েছে।
মাদক পরিবহনের কাজে বরিশাল নগরীতে প্রায় ২০০ ভ্রাম্যমাণ বাহক বর্তমানে সক্রিয় আছে। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরা মাদক সরবরাহ করে চলেছে। গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে বের হয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়েন অনেকেই।
বরিশাল মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যাদেরকে আমরা ধরে জেলখানাতে দিচ্ছি, তারা কিছুদিন পরেই আবার বের হয়ে আসছে।” জামিনে বের হয়ে আসামিরা আবারও পূর্বের মাদক ব্যবসায় ফিরে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, “পার্সেন্টেজে যাব না, তবে এদের একটি বড় অংশই রিপিট গ্রেপ্তার হচ্ছে।” অন্যদিকে মামলা করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুষছেন আইনজীবীরা। পুলিশের অভিযোগপত্রে তথ্যের গড়মিল ও ভুল ধারা থাকলে আসামিরা সহজে জামিন পেয়ে যায়।
আইনজীবী এইচ আর তসলিম বলেন, “ফরোয়ার্ডিংয়ে কোনো ঘাপলা থাকলে, জাজমেন্টে গিয়ে ওই আসামি বের হয়ে যাবেই।” বরিশালে গত এক বছরে গ্রেপ্তারকৃতদের ৭০ শতাংশ মাদক আসামিই এখন জামিনে মুক্ত আছেন। এর ফলে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ শীর্ষ কারবারি গ্রেপ্তার, পুলিশের জালে মূল হোতা