সরকারি নথিতে নাম রয়েছে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, কিন্তু বাস্তবে মিলছে না কোনো অস্তিত্ব। তবুও বছর পর বছর এসব কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া হচ্ছে বিপুল সরকারি বরাদ্দ।
সম্প্রতি বরিশালের বাকেরগঞ্জে এমন ১৫টি অস্তিত্বহীন এতিমখানার নামে প্রায় ৯ লাখ টাকার খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে এই ভূয়া বরাদ্দ দেওয়া হলো, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
২০২৫ সালে বাকেরগঞ্জের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজের সুপারিশে এই মেগা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে এই বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল।
বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকেই সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠায় উপজেলার একাধিক এলাকায় ঘুরে একটি এতিমখানারও বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় হাফেজী হুজুরেরা জানান, মাদ্রাসার নামের কিছু অংশ পরিবর্তন করে বরাদ্দ লোপাট করা হচ্ছে। সরকারি কাগজে উল্লেখিত ইসলামিয়া হাফেজী মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই।
এমন ঘটনায় বাকেরগঞ্জের প্রকৃত এতিমখানা সংশ্লিষ্টরা ও সাধারণ সচেতন মহল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই প্রতারণার কারণে উপজেলার প্রকৃত এতিম শিশুরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাকেরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নাছির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার নাম ভাঙিয়ে যারা খাচ্ছে, তাদের কঠোর বিচার হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অন্যায় করার সাহস না পায়।” এই হরিলুটের পেছনে বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ন্যাক্কারজনক বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা। মো. কামরুজ্জামান নামের এই কর্মকর্তা মূলত বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণের চেষ্টা করেন।
তবে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ইউএনও মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে তিনি পরবর্তীতে স্পষ্ট বক্তব্য দেবেন।
উপদেশের সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত এতিমদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকারি টাকা যেন সঠিক খাতে ব্যয় হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।