বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদল চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজনকে পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের অফিস কক্ষে একটি বিশাল তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা বলেন, আমরা স্বৈরাচারের দালালকে বরিশালে স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে কখনও গ্রহণ করব না। পদোন্নতি পাওয়া ডাক্তার মনিরুজ্জামান শাহীনের দ্রুত অপসারণ চেয়ে তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে নতুন স্বাস্থ্য পরিচালকের পক্ষে ব্যাপক জনমত ও শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। বরিশাল টাইমসের নিউজ এডিটর হাসিবুল ইসলাম সম্ভবত সংবাদ প্রকাশ করার জন্য পরিচালকের তথ্য চেয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন।
সেই পোস্টে মন্তব্য করেন বাংলানিউজ টোয়েন্টি ফোরের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত সাংবাদিক মুস্তাফিজ সৌরভ। তিনি লেখেন, ডাক্তার শাহীন শেবাচিমের ছাত্র ছিলেন এবং তিনি শতভাগ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
মাসুদ রানা নামে আরেকজন সেখানে মন্তব্য করেন যে, ডাক্তার শাহীন মূলত জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী। বিগত ১৭ বছরে যেহেতু উনি একজন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রোগ্রামে উনাকে উপস্থিত হতে হয়েছে। সরকারি প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে ফুলের শুভেচ্ছা দেওয়ায় মন্ত্রীদের সাথে উনার কিছু ছবি রয়েছে। এই ছবিগুলোকে পুঁজি করে একটি বিশেষ মহল তাকে দোসর বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
অনেকেই মন্তব্যের ঘরে জানিয়েছেন যে, এই ডাক্তার করোনাকালীন দুর্যোগে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন। যখন সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছিল না, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবায় এগিয়ে আসেন।
শেবাচিম হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট ও নার্সদের নিয়ে তিনি মানুষের সেবা প্রদানে প্রধান সেনাপতির ভূমিকা রাখেন। তাই সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন হঠকারী আন্দোলন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান, দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস