বরিশাল নগরীর ৪ নং ওয়ার্ড ভাটিখানা আলমদানী সড়ক (জোর মসজিদ) এলাকার মৃত মোঃ রফিকুল ইসলামের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও প্রবাসী সন্তানদের ওয়ারিশি অধিকার বঞ্চিত করতে জালিয়াতি ও নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তীর রফিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী আমতলীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজমুন নাহার মনি এবং তার দেবর (রফিকুলের ছোট ভাই) পেশায় আইনজীবী নজরুল ইসলাম চুন্নুর বিরুদ্ধে।
বর্তমানে সম্পত্তিটি নিয়ে বরিশাল জজ কোর্ট ও হাইকোর্টে বন্টন মামলা চলমান থাকলেও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে মূল দলিল উত্তোলন ও বাড়ি দখলের পায়তারা চলছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা খানম উভয়েই তৎকালীন সময়ে সোনালী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে ব্যাংক মরগেজ রেখে একটি সাড়ে চার তলা ভবন নির্মাণ করেন।
২০২১ সালে তার মৃত্যুর পর আমেরিকা ও কানাডাপ্রবাসী প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষ ও চাচার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে মৃত রফিকুলের প্রবাসী বড় ছেলে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সাগর দেশে এসে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু নাজমুন নাহার মনি এবং নজরুল ইসলাম চুন্নু পরিকল্পিতভাবে সেই মিমাংসার প্রচেষ্টা বানচাল করে দেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নাজমুন নাহার মনি একজন সরকারি শিক্ষিকা হওয়া সত্ত্বেও তার প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আইনজীবী নজরুল ইসলাম চুন্নু বর্তমানে ওই বাড়িতে স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য একটি গোপন পরিকল্পনা করছেন।
এছাড়া প্রবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা দাবি করারও অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে।
শুধু শহরের ভবনই নয়, এমনকি দাদার বাড়িতে বাবার নির্মিত ঘরটিও দখলের পায়তারা করছেন এই প্রভাবশালী চাচা।
প্রবাসী ওয়ারিশরা ২০২২ সালে বন্টন মামলা দায়ের করলে আদালত সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এর মধ্যেই সৎ মা ও চাচা দাবি করছেন, রফিকুল ইসলাম ২০১৪ ও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্ত্রীকে জমি ‘হেবা’ করে দিয়েছেন।
তবে সোনালী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, যেহেতু ২০১৩ সাল থেকেই জমির মূল দলিল ব্যাংকের কাছে বন্ধক ছিল, তাই আইনত এই জমি হস্তান্তর বা হেবা করা অসম্ভব এবং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ।
প্রবাসী বড় ছেলে সাগর জানান, তার বাবার স্বাক্ষর করা কিছু ব্লাঙ্ক চেক সৎ মার হেফাজতে রয়েছে, যা তারা ফেরত দিচ্ছেন না।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, আইনজীবী চাচা চুন্নুর প্ররোচনায় সেই চেকগুলো দিয়ে মিথ্যা মামলা বা জালিয়াতি করা হতে পারে।
এছাড়া প্রবাসীদের নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে প্রবাসীরা দেশে এলেও নিজেদের বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারটি দেশে আসতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।