কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়নে এক অনন্য ও যুগান্তকারী সাফল্য দেখিয়েছে বরিশালের রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টার।
মূলত, বিশেষ কলম পদ্ধতির (গ্রাফটিং) মাধ্যমে এখানে একই গাছে ১০টি ভিন্ন জাতের আম উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষি গবেষকরা।
ইতোমধ্যে এই বহু জাতের আম গাছ স্থানীয় ফল চাষি ও ছাদ বাগানীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ভবিষ্যতে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, সফলভাবে এক গাছে ১০ জাতের আম উৎপাদনের পর এখন একই গাছে ২০ জাতের আম ফোলানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে দেশি আম গাছে কলমের মাধ্যমে জাপানের বিখ্যাত ও বিশ্বের সবচেয়ে দামি ‘মিয়াজাকি’ (সূর্যডিম), থাইল্যান্ডের ‘নামডক মাই’, ‘রেড আইভরি’, ‘থ্রি টেস্ট’ সহ দেশি-বিদেশি জনপ্রিয় জাত যেমন—আম্রপালি, বাড়ি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, বাড়িভোগ ও বারোমাসি বাড়ি-১১ জাতের আম উৎপাদন করা হচ্ছে।
এক গাছে ১০ জাতের আমের চারা সরবরাহ ও বিশেষ প্রশিক্ষণ
হর্টিকালচার সেন্টারটি শুধু এই বহু জাতের আম উৎপাদনই করছে না, বরং আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য এক গাছে ১০ জাতের আমের বিশেষ চারাও সরবরাহ করছে।
মূলত, চারা বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতারা যাতে ঘরে বা বাগানে সঠিকভাবে এর ফলন ধরে রাখতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ফ্রি প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছর এই কেন্দ্রটি উৎপাদিত প্রায় আড়াই লাখ ফলের চারার মধ্যে প্রায় দেড় লাখই বহু জাতের আমের চারা বিক্রি করে থাকে।
রহমতপুরে এখন ৭৪ জাতের আমের সমাহার: মুগ্ধ ক্রেতারা
এদিকে, এই হর্টিকালচার সেন্টারে চারা কিনতে আসা এক দর্শনার্থী ও ক্রেতা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এখানে এসে দেখলাম যে একই ক্যাম্পাসে প্রায় ৭৪ ধরনের আম গাছ রয়েছে।
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, একই গাছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জাতের আম ঝুলছে।
আমি আগে চারা গাছ ও সাধারণ কলম দেখলেও, এখান থেকে এই বহু জাতের বিশেষ আম গাছের কলম নিতে চাই।”
মূলত, ছাদ বাগানীদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।
হর্টিকালচার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা
অন্য দিকে, হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, যারা এই বহু জাতের আম চাষে আগ্রহী, তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এক গাছে ১০, ১৫ বা ২০ প্রকারের আমের গ্রাফটিং করার কৌশল শেখানো হচ্ছে।
বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলে বিশ্বের খ্যাতিমান সব জাত সহ মোট ৭৪ জাতের আমের চাষ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বহু জাতের এই আম গাছের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এ অঞ্চলে আম চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আগামীতে আরও বহুগুণ উজ্জ্বল করবে।
আরও পড়ুন: রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও বরিশালের সব শেষ খবর