বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত ‘পাইরা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’-এর টায়ার ও রাবার পোড়ানোর বিষাক্ত দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
মূলত, প্রতিদিন রাতে এই কারখানায় পুরনো টায়ার পোড়ানোর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়া ও গন্ধের কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বাসিন্দারা জানান, এর মধ্যেই এলাকার শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি ফসলের খেতেও মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ টন পুরনো টায়ার ও রাবার পোড়ানো হয়।
মূলত, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারখানাটিতে কার্বন, স্ক্র্যাপ এবং গ্রিন অয়েল তৈরি করা হয়ে থাকে।
এখানে উৎপাদিত গ্রিন অয়েল পরবর্তীতে রাস্তার পিচ গলানোর কাজে, ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে এবং বিভিন্ন রঙের কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে এই বাণিজ্যিক লাভের বিপরীতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
রাতের আঁধারে ছড়ায় দুর্গন্ধ, নষ্ট হচ্ছে ফলমূল ও ফসলি জমি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের চেয়ে রাতের বেলা যখন এই টায়ারগুলো পোড়ানো হয়, তখন বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ফলে রাতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও মানুষ শান্তিতে ঘুমোতে পারে না। শুধু তাই নয়, এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এলাকার গাছপালার ফলমূল অকালেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
একই সাথে, বাতাস যখন দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়, তখন এই বিষাক্ত গ্যাস সরাসরি স্থানীয় স্কুলের দিকে চলে আসে, যা কোমলমতি বাচ্চাদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
এদিকে, এই জনদুর্ভোগের বিষয়ে কথা বলেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
তাঁরা জানান, প্ল্যান্টের নির্গত বাতাস থেকে ক্ষতিকর ধূলিকণা, বিষাক্ত গ্যাস ও দুর্গন্ধ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে—এমন সুনির্দিষ্ট শর্তেই মূলত এই কারখানা কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
অন্য দিকে, এই শর্তের সামান্যতম ব্যত্যয় ঘটলে এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, গ্রিন অয়েল বা রিসাইক্লিং শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এমন বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো কারখানা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মূলত, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাবুগঞ্জের সাধারণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে দ্রুত এই প্ল্যান্ট পরিদর্শনে গিয়ে কঠোর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: পরিবেশ দূষণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও বরিশাল জেলার সব শেষ খবর