বরিশাল মহানগরীজুড়ে হঠাৎ করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা যাতায়াত ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত, এই বর্ধিত ভাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও হাজারো শিক্ষার্থী।
এর প্রতিবাদে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে বরিশাল নগরীতে অটোরিকশা ভাড়া তদারকিতে বিসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মীদের মাঠে নামার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের তথ্যমতে, আগে যেখানে সিএনজিতে লঞ্চঘাট থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত ভাড়া ছিল ২০ টাকা, এখন সেখানে ২৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
একইভাবে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা করা হয়েছে।
অনেক রুটে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা এবং ৩০ টাকার ভাড়া সরাসরি ৫০ টাকা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।
মূলত, নতুন ভাড়ার তালিকা সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে যাত্রীদের পকেট কাটা হচ্ছে।
দাম ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অজুহাত চালক-মালিকদের
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে অটোরিকশা চালকরা জানান, বর্তমানে প্রতিটি মালামালের দামের পাশাপাশি গ্যারেজে বিদ্যুৎ বিল ও গাড়ির জমা বহুগুণ বেড়েছে।
আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে।
একই সাথে, একটি অটোরিকশার দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ ৮০ হাজার এবং ব্যাটারির দাম ৪৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা হয়েছে।
ফলে ডাইনে-বায়ে কোনো টাকা না থাকায় তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন.
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন সিএনজি চালকরা
এদিকে, সিএনজি চালকরাও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ভাড়া বাড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন।
তারা বলেন, “চার সিটের এই গাড়িতে যাত্রী যত বেশি হবে, গ্যাস তত বেশি লাগবে। আগে ৬০০ টাকার গ্যাস দিয়ে দিন পার হলেও এখন ১০০০ টাকার গ্যাস ভরাও লাগে।
তাই মহাজনের জমা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।”
তবে সাধারণ মানুষ এই খোঁড়া যুক্তি মানতে নারাজ। তারা অবিলম্বে ৫ টাকার সর্বনিম্ন ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বিসিসি প্রশাসকের কাছে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি ও রাজস্ব বিভাগের তদারকির দাবি
অযৌক্তিক ও বেআইনি এই ভাড়া বৃদ্ধি সিন্ডিকেট নির্মূলের দাবিতে গতকাল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) মাননীয় প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, এই নৈরাজ্যের কারণে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
তারা অবিলম্বে বরিশাল শহরে বিসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মীদের ভাড়া তদারকিতে মাঠে নামার জোর দাবি জানান।
একই সাথে, অটোরিকশা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বিসিসি’র কর্মীদের সার্বক্ষণিক মাঠে রাখার আহ্বান জানান তারা।
বিসিসির প্রধান নির্বাহীর আশ্বাস
অন্য দিকে, সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ ও শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে তারা গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এই ভাড়া নৈরাজ্যের বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই ম্যাডামের (মাননীয় প্রশাসক) সাথে জরুরি বৈঠকে বসব।
আশা করছি খুব শিগগিরই নগরবাসীর স্বার্থে একটি ভালো ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত দিতে পারব।”
আরও পড়ুন: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ভাড়া ও নগরীর সব শেষ খবর