পরিবেশ রক্ষা ও সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে ইটের বিকল্প হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বরিশালের উজিরপুরে গড়ে উঠেছিল আধুনিক কংক্রিট ব্রিক্স ও ব্লক শিল্প।
তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার চরম অভাব এবং প্রচার-প্রচারণার দৈন্যতায় এই পরিবেশবান্ধব উদীয়মান শিল্পটি এখন প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।
এর ফলে একদিকে পোড়া ইটের ব্যবহারে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল বিনিয়োগ করে চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
উজিরপুরের আভা কংক্রিট ব্রিকস অ্যান্ড ব্লক ফ্যাক্টরির চেয়ারম্যান হাজী গোলাম মোস্তফা তাঁর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের ঘোষণা ও পরিবেশ রক্ষার নির্দেশনা মোতাবেক আমি আমার লাভজনক মাটির ইটের ভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে কোটি টাকা খরচ করে এই কংক্রিট ব্লক ফ্যাক্টরি তৈরি করেছিলাম।
কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় আমার এই আধুনিক কারখানাটি এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”
উন্নয়ন প্রকল্পে ব্লক ব্যবহারে অনীহা: বিপাকে উদ্যোক্তারা
স্থানীয় কারখানার মালিকদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্পভিত্তিক কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় অধিকাংশ কারখানা এখন গভীর সংকটে রয়েছে।
এখনই যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ শিল্পে নতুন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ একবারে কমে যাবে।
তাই পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে মাটির তৈরি ইটের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে ব্লক ব্যবহারের জন্য সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশবান্ধব ও কার্বন নিঃসরণমুক্ত প্রযুক্তি
এদিকে, এই আধুনিক নির্মাণ সামগ্রীর বৈজ্ঞানিক সুবিধা নিয়ে কথা বলেছেন বরিশাল উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়।
তিনি বলেন, মূলত কংক্রিটের ব্লক বা ব্রিক্স তৈরি করতে হলে কোনো প্রকার সনাতন আগুনের ভাটার প্রয়োজন হয় না।
যার ফলে আমাদের পরিবেশে বিষাক্ত কার্বন নিঃসরণ অনেক কম হয়।
এই বিশেষ টেকনিক্যাল কারণে সাধারণ ইটের কাঠামোর চেয়ে কংক্রিটের ব্লকের স্ট্রাকচারগুলো অনেক বেশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হয়।
ভবন মালিক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি
অন্য দিকে, স্থানীয় ভবন মালিক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, কংক্রিট ব্লক একটি অত্যন্ত কার্যকর, সাশ্রয়ী ও আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী।
এটি ভবনের স্থায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরকে অতিরিক্ত গরম হতে দেয় না।
তাই সরকারি বড় বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও এর ব্যবহার আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো উচিত।
মূলত, সবুজ বা পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে উজিরপুরের এই সংকটাপন্ন শিল্পটিকে বাঁচাতে অবিলম্বে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল, উজিরপুরের আবাসন শিল্প ও স্থানীয় সব শেষ অনুসন্ধানী খবর