নারীদের জন্য বর্তমান ভার্চুয়াল জগৎ দিন দিন যেন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত ফেক আইডি, বিকৃত ছবি আর ইনবক্সে নোংরা প্রস্তাবের শিকার হচ্ছেন তরুণীরা।
এর ফলে চরম মানসিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে ভুক্তভোগীদের মাঝে। মূলত এই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে গত তিন বছরে বরিশালে চারজন নারী আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে বরিশাল বিভাগের সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় সাড়ে পাঁচশো মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সাথে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সেলের মাধ্যমে প্রশাসন কাজ করছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি মূলত সাইবার বুলিং প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
তবে পুলিশ কমিশনার জানান, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে এই অপরাধ শতভাগ দমন সম্ভব নয়। অন্য দিকে অপরাধের সুফল ও কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
ইদানীং তরুণ প্রজন্মের মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে সমাজে এবং পরিবারে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
ফলে সন্তানদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। একই সাথে পারিবারিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা প্রয়োজন।
মূলত পুলিশ প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই সংকট দূর করতে। তবেই নারীদের জন্য একটি নিরাপদ সাইবার বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নতুন বিশেষ সেল