বরিশালে বেডরুমের এসির ভেতর থেকে একের পর এক জীবন্ত সাপ বের করা হচ্ছে। খোদ বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলায় এটি এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়, ক্লিনিক কিংবা বেডরুমের এসি—কোনো জায়গাই বাদ যাচ্ছে না। চলতি মাসের ২০ দিনেই মূলত অন্তত পাঁচ জোড়া সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরপর এমন সাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ আর আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাপ মানুষের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়।
মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন এবং প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসছে। জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস মূলত সাপের প্রধান প্রজনন মৌসুম।
যেহেতু এই সাপ মানুষের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়, তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মূলত এসির পাইপের মুখ ভালো করে আটকে রাখার তাগিদ দেন।
পটুয়াখালী অ্যানিমেল লাভার্সের পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, “সাপ মূলত এসির আউটডোরের পাইপ বেয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। এরা ক্ষতিকর না হলেও ঘরে ঢুকে অবস্থান নেয়।”
এদিকে সাপ দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তারা পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে আছেন। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে বেশি ভয় কাজ করছে সবার মনে।
তবে সাপের উপদ্রব দেখা দিলে সেটিকে আঘাত না করে বন বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বরিশাল সামাজিক বন বিভাগ এই সাপগুলো উদ্ধারে নিয়মিত কাজ করছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের দক্ষ উদ্ধার টিম রয়েছে। খবর পেলে সহজেই সাপ উদ্ধার করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: বরিশালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন উদ্যোগ