দুর্যোগের সময় দক্ষিণাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশালে ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল অত্যাধুনিক চাল সংরক্ষণাগার। তবে উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এটি এখনো চালু করা যায়নি।
নানা সমস্যা ও চরম সমন্বয়হীনতায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এই মেগা সাইলোটি। বরিশাল নগরের ৩০ গোডাউন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে এটি অবস্থিত।
গত বছরের ১০ আগস্ট উদ্বোধনের পর এখানে মূলত একসাথে ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল সংরক্ষণের পরিকল্পনা ছিল। সেই লক্ষ্যে সেখানে ১৬টি বিশাল বিন বা পাত্র নির্মাণ করা হয়।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এই আধুনিক সাইলোর ১৫টি বিনি বর্তমানে পুরোপুরি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এখন সাইলোটিতে মজুদ রয়েছে মাত্র চার শতাধিক মেট্রিক টন চাল।
কীর্তনখোলা নদীতে নবনির্মিত জেটির সামনে তীব্র নাব্যতার সংকট থাকায় নৌপথটি এখন সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। এর ফলে আজ পর্যন্ত কোনো মালবাহী জাহাজ এখানে নোঙর করতে পারেনি।
বিশাল এই রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে বর্তমানে স্থায়ী কোনো নিরাপত্তা বা প্রহরীর ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দিনের কাজ শেষে রাতের আঁধারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই পালাক্রমে পাহারা দিতে হচ্ছে।
বরিশাল সাইলোর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক রাকেশ বিশ্বাস বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং করে দিলে এখানে সহজেই জাহাজ আসতে পারবে। তখন আমরা চাল গ্রহণ ও ডেলিভারি দেওয়া শুরু করব।”
বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা নকীব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় চাল রাখার বিষয়ে এখনো অধিদপ্তরের কোনো নির্দেশনা নেই। তবে খুব শীঘ্রই আমরা সাইলোটি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করব।”
আরও পড়ুন: কীর্তনখোলা নদীর নাব্যতা সংকট ও বরিশাল নৌবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি