বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইয়ারব্যাগ গ্রামে এক প্রাচীন পাকাবাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি এই দ্বিতল ভবনটি মূলত পর্তুগিজদের দুর্গ বলে পরিচিত।
মেঘনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ভবনের বয়স প্রায় ৪৫০ বছর। প্রাচীন স্থাপত্য শৈলী ও রহস্যময় সুড়ঙ্গের কারণে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আজও আকর্ষণীয়।
জঙ্গল বেষ্টিত এই দ্বিতল ভবনটিতে মোট ছয়টি কক্ষ রয়েছে। একই সাথে এর চারদিকে আগে ১০ ফুট উচ্চতার শক্ত প্রাচীর ছিল।
প্রাচীন এই পাকা ভবনটি নিয়ে এলাকায় নানাবিধ অলৌকিক গল্পকথা প্রচলিত রয়েছে। তবে ভবনটির কিছু অংশ গুঁড়িয়ে বর্তমানে সেখানে স্থানীয় হাওলাদার বংশীয়রা বসতি গড়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এই বিল্ডিংটি ব্রিটিশরা আসারও অন্তত ১০০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এখানে একসময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের নিয়মিত যাতায়াত এবং বসবাস ছিল।
ভবনটির সিঁড়ির কোঠায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য গোলাকার ছোট ছিদ্র রয়েছে। এর ফলে এটি যে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো, তা স্পষ্ট বোঝা যায়।
এখানে একটি সুড়ঙ্গ পথ এবং দিঘির পাড়ে আনারস বাগানের উপস্থিতি রয়েছে। মূলত এই নিদর্শনগুলোর কারণেই স্থানীয়রা এটিকে পর্তুগিজদের দুর্গ মনে করেন।
সিঁড়ির নিচের সুড়ঙ্গটি অনেক গভীরে চলে গেছে। প্রাচীন এই সুড়ঙ্গটি মূলত দিঘি এবং ভেতরের রাস্তার দিকে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
মেহেন্দিগঞ্জের একজন সংবাদকর্মী জানান, প্রাচীন এই স্থাপনা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল কাজ করেছে। অধ্যাপক জুলকারনাইন তার টিম নিয়ে এখানে এসেছিলেন।
তারা এই ঐতিহাসিক পাকাবাড়ির ওপর ইতোমধ্যে একটি বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করেছেন। একই সাথে সেই প্রতিবেদনটি তারা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগেও দাখিল করেছেন।
এদিকে বরিশাল জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, তিনি স্থানটি সরজমিনে পরিদর্শনে যাবেন। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকলে তা অধিদপ্তরকে জানানো হবে।
সরকার থেকে সিদ্ধান্ত হলে তারা প্রাচীন স্থাপনাটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রত্নতাত্ত্বিক তাৎপর্য থাকলে এটি সংরক্ষণের জন্য দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।