ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সারা দেশে যখন উল্লাসের আমেজ, ঠিক তখনই বরিশালের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এক ভয়ঙ্কর আসক্তি। অনলাইন জুয়া বা বেটিং অ্যাপের এই মরণকামড়ে ধ্বংস হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফুটবল বিশ্বকাপ, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বা বিপিএল-এর মতো বড় বড় খেলার সময় এই জুয়ার প্রবণতা মারাত্মক রূপ নেয়। বন্ধু কিংবা নিকটাত্মীয়ের হাত ধরেই মূলত এই অন্ধকার দুনিয়ায় প্রবেশ করছে তরুণরা।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই নিষিদ্ধ জুয়ার টাকা লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বরিশালের স্থানীয় গলিগুলোর কিছু বিকাশ দোকান। বিশ্বকাপকে পুঁজি করে বেশি লাভের আশায় এসব এজেন্টরা জুয়াড়িদের ২৪ ঘণ্টা টাকা লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত জুয়াড়িদের বাকিতেও লেনদেন বা ডিপোজিট করার সুযোগ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসব দোকানের বিরুদ্ধে।
শুরুতে জেতার লোভে পড়লেও একপর্যায়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে জুয়াড়িরা। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে এবং হেরে যাওয়ার হতাশায় অনেক তরুণ মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
অনলাইন জুয়ায় আসক্ত একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “তাদের কাছ থেকে টাকা ডিপোজিট করলাম। প্রথম প্রথম কিছু টাকা পেলেও খেলতে খেলতে একসময় সব হারিয়েছি। এখন আমার কারণে আমি নিজে এবং আমার পুরো পরিবার আজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।”
বরিশাল ‘দি নিউ লাইফ মাদকাসক্তি ও মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মর্তুজা জুয়েল জানান, চলতি মাসেই অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্ত ১২৩ জন তরুণকে তাদের পরিবার নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছে।
তিনি বলেন, “যে বয়সে জীবনের ভিত্তি গড়ার কথা, সেই বয়সে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও মাদকে জড়িয়ে তরুণরা মানসিক রোগী হয়ে পড়ছে। এ থেকে তাদের এখনই ফিরিয়ে না আনলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।”
অনলাইন জুয়ার এই সিন্ডিকেট ভাঙতে তৎপরতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জোরদার করা হয়েছে সাইবার নজরদারিও।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, “কোন দল বা দেশ জিতবে, সেটির ওপর বাজি ধরার বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশের সাইবার পেট্রোলিং টিম নিয়মিত অনলাইনে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।” তবে আইনি অভিযানের বাইরেও অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: বরিশালে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন হেল্পলাইন চালু