ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
পুকুরিয়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায় রোববার সকাল সাতটায় মূলত এই প্রথম দফার সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তীতে পৌনে ১০টার দিকে হামিরদি ও মানিকদি ইউনিয়নের মানুষ পুনরায় মুখোমুখি হয়।
সংঘর্ষের সরাসরি প্রভাবে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শত শত দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক আটকা পড়ে। এর ফলে রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়া হাজারো সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
শরীয়তপুর থেকে ফরিদপুরগামী এক ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, তিনি এক ঘণ্টা যাবত রাস্তায় বসে আছেন। মানুষের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে কিংবা চাকরিতে যাওয়ার তাড়া থাকলেও উপায় নেই।
এদিকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে পুরো এলাকা মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে স্থানীয় সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরুতে চরম হিমশিম খায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস বা টিয়ারশেল ছুঁড়ে দাঙ্গাবাজদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারাও দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মাঠে নামেন। এক নেতা বলেন, ভোরে একটি পক্ষ রাস্তায় ওঠে এবং পরে অন্য পক্ষ আসে।
তবে প্রশাসনের কড়া ভূমিকার পর দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত ঝামেলা না করার কথা দিয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষ দুই দিকে চলে যাওয়ায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা