তীব্র জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ ২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বিশ্বজার হাসপাতাল। এর ফলে এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০০৬ সালে পটুয়াখালীর কাঁঠালতলীতে মূলত এই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে এর মূল্যবান অবকাঠামো ও অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম।
শুরুতে বহির্বিভাগে সেবা চালু হলেও পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও চারজন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ খালি রয়েছে।
একই সাথে পাঁচজন মেডিকেল অফিসারের পদও এখনো শূন্য পড়ে আছে। ৪১টি পদের বিপরীতে হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন নার্স, যার ফলে সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “জরুরি কোনো সেবা এই জায়গায় চালু হয় নাই। আমরা শুধু স্লিপ পাই, কিন্তু ওষুধপত্র বা প্রয়োজনীয় কোনো বড় চিকিৎসা মিলছে না।”
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন উপসহকারী অফিসার সেবা দিচ্ছেন।
এর ফলে মির্জাগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ এবং বরগুনার সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন। এতে গ্রামীণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা অনেক সহজলভ্য হবে।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন জানান, হাসপাতাল সংস্কার ও নতুন জনবল নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ হলে দ্রুতই এখানে নরমাল ডেলিভারিসহ অন্যান্য সেবা ধাপে ধাপে চালু হবে।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালী জেলা সদরের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও বর্তমান চিত্র