বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জানালা দিয়ে বাইরে থেকে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
মুহূর্তেই চারপাশ দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠার এই ঘটনাটি মূলত হাসপাতালের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমের। তবে এই নাশকতার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো উদঘাটন করা যায়নি।
বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন মূলত ৫ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে এখানে দুই মাস অন্তর অন্তর সিরিজ অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।
চলতি বছরের গত ছয় মাসে হাসপাতালের স্টোর রুম, মেডিসিন ভবন ও ক্যাজুয়ালটি কক্ষে তিনটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় ইতিমধ্যে দুই রোগী প্রাণ হারিয়েছেন।
চিকিৎসা নিতে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম আতঙ্কে আছেন। তারা এই ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের সন্দেহ করছেন।
হাসপাতালের নথিপত্র অনুযায়ী, গত দুই বছরে এখানে অন্তত আটটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি অগ্নিকাণ্ড ছিল হাসপাতালের জন্য মারাত্মক এবং বেশ বড়।
গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার সময়কার পুরনো বিদ্যুৎ লাইনের ওপর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা অগ্নিকাণ্ডগুলো অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে তারা মনে করছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড মূলত একটি পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা। নির্দিষ্ট কিছু মহল এখানে স্যাবোটেজ বা বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এড়াতে পুরাতন লাইনগুলো দ্রুত অপসারণের কাজ চলছে। তবে নাশকতার কিছু স্পষ্ট প্রমাণ ও ফাইন্ডিংস ইতিমধ্যে তাদের হাতে এসেছে।
হাসপাতালের দালাল চক্র ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মহিউল মুনিরকে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর দেড় বছরের সফল নেতৃত্বে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তবে এই সংস্কারের মাঝেই সাম্প্রতিক সিরিজ অগ্নিকাণ্ডের রহস্য নতুন করে দানা বেঁধেছে। একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি ওষুধসহ ইতিমধ্যে অন্তত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা