বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর মাঠে বর্তমানে জমজমাট শিল্প ও বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মেলায় মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কুটির শিল্পের পণ্যকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
উপযুক্ত পরিবেশে কেনাকাটার পাশাপাশি মেলায় প্রতিদিন পরিজন নিয়ে অসংখ্য দর্শনার্থী ঘুরতে আসছেন। একই সাথে মেলা প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে।
মেলা উপলক্ষে রাইডে চড়া ও পছন্দের খাবার কিনে শিশুরা অনেক বেশি আনন্দ প্রকাশ করছে। বিভিন্ন রাইডে চড়ে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে দারুণ সময় কাটাচ্ছে।
মেলায় হস্তশিল্প, নিত্যব্যবহৃত গৃহস্থালি পণ্য, গহনা এবং আকর্ষণীয় গার্মেন্টস সামগ্রী সহজে মিলছে। ক্রেতারা জানান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং একত্রে সব পণ্য পাওয়ায় তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
এক নারী দর্শনার্থী বলেন, “মেলার পরিবেশ সুন্দর এবং এখানে কোনো গ্যাদারিং বা জটলা নেই। আমি আমার নিজের পছন্দের মতো কিছু আধুনিক অর্নামেন্টস বা গহনা কিনেছি।”
মেলার দোকানীরা জানান, তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের নিজস্ব পণ্যের পসরা নিয়ে এসেছেন। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী মূলত নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান।
ইন্দিরহাট বিসিকে তৈরি হওয়া আকর্ষণীয় কাঠের সামগ্রী ও স্টিলের জিনিসপত্র এখানে বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা কসমেটিক্স ও খেলনাসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন।
মেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান জয়নাল আবেদিন সবুজ বলেন, “মেলাটি গত ২৬শে মে শুভ উদ্বোধন হয়েছে। সারা বাংলাদেশ থেকে ১৫০টিরও ওপর নামকরা উদ্যোক্তারা এখানে স্টল নিয়ে এসেছেন।”
মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন জানান, কুটির শিল্পের প্রসারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রমোট করা তাঁদের মূল লক্ষ্য। তারা যেন সহজে ক্রেতাদের কাছে পণ্য প্রদর্শন করতে পারেন।
মেলা প্রাঙ্গণের দেড় শতাধিক স্টলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বেচাকেনা হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানান। উদ্যোক্তাদের এই মিলনমেলা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সবাই মনে করছেন।
২৬ মে থেকে শুরু হওয়া এই আকর্ষণীয় মেলাটি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে চালু হয়। দর্শনার্থীদের কেনাকাটার সুবিধার্থে মেলাটি মূলত রাত ৯টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ খোলা থাকে।
আরও পড়ুন: বরিশালের বিসিক শিল্প নগরীর উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন পরিকল্পনা