বরিশাল নগরীতে গণপরিবহন বলতে মূলত ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক ও এলপিজি চালিত থ্রি হুইলার। তবে শহরের ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে মূলত দায়ী এই দুই যানবাহন।
সম্প্রতি বেপরোয়া এসব যানবাহনের চালকেরা নানা অজুহাতে হঠাৎ করেই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগাম ঘোষণা ছাড়া এই ভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ নগরবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ইজি বাইক চালকেরা বিদ্যুৎ ও ব্যাটারির দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়েছেন। টায়ার কেনা এবং দৈনিক গাড়ির জমা বৃদ্ধির কারণেও এই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন তারা।
এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ার দাবি করে থ্রি হুইলার চালকেরাও ভাড়া ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়েছেন। অথচ চলতি মাসে এলপিজির দাম লিটারে আড়াই টাকা কমেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
নথুল্লাবাদ থেকে রূপাতলী রুটের সাধারণ যাত্রীরা হঠাৎ ভাড়া ডাবল হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, সাধারণ ও স্বল্প আয়ের মানুষকে জিম্মি করে এই নৈরাজ্য চলছে।
এক চাকুরিজীবী জানান, প্রতিদিন যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া দেওয়ায় মাসে অন্তত তেরশো টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। স্বল্প বেতনের মানুষের পক্ষে এই বাড়তি খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বরিশাল নগরীতে বর্তমানে বৈধ এলপিজি চালিত থ্রি হুইলারের সংখ্যা রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক রয়েছে ৭ হাজার ৬১০টি।
তবে বাস্তবে অনুমোদনের বাইরে অগণিত থ্রি হুইলার এবং ইজি বাইক নিয়মিত চলাচল করছে। বৈধ গাড়িগুলোর লাইসেন্সও দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন না হওয়ায় পুরো খাতে বিশৃঙ্খলা চলছে।
বিআরটিএ বরিশাল পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, “এই যানবাহনগুলো মূলত কন্টাক্ট ক্যারেজ হিসেবে চলার কথা। মিটার সিস্টেম না থাকায় স্টেজ ক্যারেজের মতো চলায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।”
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “ভাড়া বৃদ্ধি কোনো সমাধান না। এই অটোরিকশাগুলোকে নিয়মের মধ্যে এনে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত জরুরি।”
রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ গাড়ি চলায় একসময়ের জনপ্রিয় বাস সিটি সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এই ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও পড়ুন: বরিশাল নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ অভিযান