খরস্রোতা বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বরগুনার বামনা উপজেলা খাদ্য গুদামটি নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে। একই সাথে স্থানীয় লঞ্চ ঘাটটিও এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
নদীর ভাঙন রোধে এর আগে ফেলা জিও ব্যাগগুলো ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে নদীপাড়ের ফসলি জমি ও বসতভিটা নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন বাসিন্দারা।
ভাঙনের ফলে এলাকার যোগাযোগের প্রধান রাস্তাটি ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। জোয়ারের পানির তীব্র টানে জিও ব্যাগের বস্তাগুলো কোনো কাজেই আসছে না।
উপজেলার রামনা এলাকার চিত্রও একই রকম এবং সেখানকার বেড়িবাঁধটি এখন বিলীনের পথে রয়েছে। ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে যেকোনো সময় এটি ভেঙে যাবে।
চলতি বর্ষায় বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে পুরো এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক বলেন, “আমাদের অনেক জমিজমা ও গাছপালা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এখন ঘরের কুলে এসে ঠেকেছে, তাই স্থায়ী ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়া প্রয়োজন।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড বামনা ও রামনা এলাকায় ২২ কিলোমিটার তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকা সনাক্ত করেছে। ইতিমধ্যেই এই ভাঙন রোধে দুটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “আমরা একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। জনগণের সহায় সম্পত্তি রক্ষায় মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার এই প্রকল্প অনুমোদন দিলে আমরা মানুষের জানমাল রক্ষা করতে পারব। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেক হ্রাস করা সম্ভব হবে।”
আরও পড়ুন: বরগুনা জেলাজুড়ে বিষখালী ও পায়রা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি ও সর্বশেষ আপডেট