ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে ২২ লক্ষ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থলটি এখন অচল প্রায়।
গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল বা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় অনেক রোগী পথেই মারা যাচ্ছেন।
২০২১ সালে করোনা মহামারীর সময়ে হাসপাতালে দুই ধাপে ৬টি আইসিইউ শয্যা দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে সেখানে প্রয়োজনীয় কোটি কোটি টাকার অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও আসে।
কিন্তু দক্ষ ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টের অভাবে ৫ বছরেও ইউনিটটি চালু করা যায়নি। ফলে তালাবদ্ধ ঘরে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার স্বামী হার্টের রোগী ছিলেন, কিন্তু এখানে কোনো চিকিৎসা নেই। আইসিইউর অভাবে রোগীদের নিয়ে আমাদের ঢাকা যেতে হয় এবং অনেকে পথেই মারা যান।”
ভোলা থেকে ঢাকা যেতে মূলত ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে। এর ফলে জরুরি মুহূর্তে উন্নত আইসিইউ সেবা না পেয়ে অনেক জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে।
টাকার অভাবে অনেক গরিব মানুষ চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে যেতে পারেন না। তারা মূলত ভোলা সদর হাসপাতালেই আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “ঢাকায় আইসিইউর খরচ অনেক বেশি এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব। ভোলায় আইসিইউ থাকলে আমাদের এই কষ্ট পেতে হতো না।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইসিইউ ইউনিটটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল দেওয়া হয়নি। তারা একাধিকবার কাঠামো প্রস্তুতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ নার্স পেলে ইউনিটটি দ্রুত চালু করা সম্ভব। তবে ৫ বছর ধরে অলস পড়ে থাকা এই ইউনিটটি সচল করতে কার্যকর উদ্যোগ চান জেলাবাসী।
আরও পড়ুন: ভোলা-বরিশাল নৌপথের বর্তমান অবস্থা ও রোগীদের যাতায়াত সংকট