চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৯৮৩ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রোগীর সংখ্যা কম হলেও পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি। এই দুই জেলার আক্রান্ত রোগীরা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন শুরু থেকেই যৌথভাবে কাজ করছে। এর আগে মে মাসকে পরিচ্ছন্নতা মাস এবং জুনকে মশক নিধন মাস ঘোষণা করা হয়।
বিসিসি প্রশাসক জানান, মশা নিধনের জন্য গত বছরের চেয়ে এবার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এবার মশা মারার জন্য অত্যন্ত উন্নত মানের ওষুধ বরিশালে নিয়ে আসা হয়েছে।
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রে দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। প্রতিদিন আটজন করে ডেঙ্গু কর্মী নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ হয়ে এই কাজ করছেন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশাল নগরীতে ইতিমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের বড় অংশই মূলত ঢাকা থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তারা নিজ নিজ জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে এসে ভর্তি হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরিশালের সব জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শের-ই-বাংলা হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেবাচিম হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের আধুনিকায়ন ও চিকিৎসকদের বিশেষ প্রস্তুতি