বরিশাল বিসিসি এনেক্স ভবন সংস্কারে অনিশ্চয়তা
বরিশাল ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও সংস্কার হয়নি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিবির পুকুর পাড় সংলগ্ন ‘এনেক্স ভবন’টি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
যথাযথ উদ্যোগের অভাবে সরকারি এই সম্পদটি নষ্ট হতে চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
ভবনটির বর্তমান অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির তিন তলায় ছিল সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কার্যালয়, দ্বিতীয় তলায় স্বাস্থ্য ও হিসাব বিভাগ এবং নিচতলায় ছিল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ বিদ্যুৎ অফিস।
আগুনের ভয়াবহতায় পুরো ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বর্তমানে নিচতলায় কেবল একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
বাকি সব কক্ষই এখন ধ্বংসস্তূপ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির স্থায়িত্ব যাচাই করতে ‘ডিজাইন ভ্যালু আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার’ নামের একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানায়, প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রিট্রোফিটিং করলে ভবনটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
নতুন কমিটি ও নকশা জটিলতা
বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, ভবনটির আগের কোনো অনুমোদিত নকশা (ডিজাইন) পাওয়া যায়নি।
তাই বিপুল টাকা খরচ করে সংস্কার করা কতটা যৌক্তিক হবে, তা যাচাই করতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তাদের চূড়ান্ত মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “ডিজাইনবিহীন ভবনে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে সংস্কার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নতুন কমিটির রিপোর্ট পেলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এটি সংস্কার হবে নাকি ভেঙে ফেলে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিসিসি প্রশাসকদের ধীরগতি ও উদাসীনতায় গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে।
তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি এই সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বরিশাল সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন সংবাদ






