প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে নব্বই ছুঁইছুঁই বয়সে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই আলেয়া বেগমের | নেছারাবাদ নব্বই ছুঁইছুঁই বয়সে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই আলেয়া বেগমের | নেছারাবাদ
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
নাগরিক ভোগান্তি কমাতে বিসিসি’র বড় উদ্যোগ: চালু হলো ‘আমাদের বরিশাল’ ফেসবুক গ্রুপ চাঁদমারির মনোয়ারা হোটেল রান্নায় ব্যবহার করছে ‘ম্যাজিক মসলা’: বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি! নাগরিক দাবি: সাধারণ বরিশালবাসীর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উন্মুক্ত হোক ডিসি লেক ও শতবর্ষী ‘পদ্মপুকুর’ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সৈয়দ রিয়াজুল করিম সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী ঝালকাঠিতে বিস্ফোরক ও ভাঙচুর মামলায় জর্দা শামীম ও তার ভাই কারাগারে দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার দাবি যাত্রী সেবা কল্যাণ সমিতির বিসিসির ২৫ নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও তাদের স্বজনদের নির্বাচনী তোড়জোড় শিশু রামিসা হত্যাকারীর ফাঁসি ও নিরাপদ ঈদুল আজহার দাবিতে কাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

নব্বই ছুঁইছুঁই বয়সে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই আলেয়া বেগমের

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
আলেয়া বেগম

নব্বই ছুঁইছুঁই বয়সে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই আলেয়া বেগমের

লিড: পিরোজপুরের নেছারাবাদে নদীর পাড়ের একটি জীর্ণ ঘরে একা বসবাস করছেন প্রায় ৯০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম। শেষ বয়সে এসে সন্তানদের সান্নিধ্য ছাড়াই দুমুঠো আহারের জন্য তাঁকে প্রতিদিন কাজ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।

নেছারাবাদ উপজেলার কামারকাঠি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলেয়া বেগমের জীবন যেন দারিদ্র্য আর নিঃসঙ্গতার দীর্ঘ গল্প। মুক্তিযুদ্ধের তিন বছর পর স্বামীকে হারানোর পর থেকেই শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু শেষ বয়সে এসেও কমেনি কষ্ট।

এদিকে সংসারের সদস্য বলতে এখন তিনি একাই। যদিও তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তবে বাস্তবতায় শেষ বয়সে তাঁদের সান্নিধ্য কিংবা নিয়মিত সহযোগিতা কিছুই জোটে না। ফলে অবহেলা আর একাকিত্বই হয়ে উঠেছে তাঁর নিত্যসঙ্গী।

নদীর পাড়ের জীর্ণ ঘরেই শেষ আশ্রয়

কামারকাঠি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা একটি ছোট ও নড়বড়ে ঘরই আলেয়া বেগমের একমাত্র আশ্রয়। বর্ষা কিংবা বন্যার সময় নদীর পানি বাড়লে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তবুও এই ঘর ছেড়ে যাওয়ার মতো কোনো বিকল্প নেই তাঁর সামনে।

অন্যদিকে বয়সের ভার, ঝাপসা দৃষ্টি ও নানা শারীরিক সমস্যার কারণে হাঁটাচলাই তাঁর জন্য কষ্টকর। তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ দুমুঠো খাবারের জন্য তাঁকে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই বাঁচতে হয়।

সুপারির খোসা ছাড়িয়েই চলে জীবন

সুপারির মৌসুমে ধারালো দা হাতে নিয়ে কাঁচা সুপারির খোসা ছাড়ান আলেয়া বেগম। প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করেন। তাঁর ভাষায়, ১০০ সুপারি ছাড়ালে হয় এক কুড়ি। ১০ কুড়ি সুপারি ছিলাতে পারলে মেলে ৫০০ টাকা।

তবে বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এক হাজার সুপারি ছাড়াতে তাঁর প্রায় সাত দিন সময় লাগে। এই সাত দিনের আয়ে কোনো রকমে একার খাবার জোটে।

তবে সুপারির মৌসুম না থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন অনেক সময় আধপেটা খেয়েই দিন কাটাতে হয়। মাঝে মধ্যে মেয়ে তিন-চার শ টাকা পাঠালে তাতেই ভরসা রাখেন তিনি।

শীতেও নেই বিদ্যুৎ, নেই গরম কাপড়

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের এই মৌসুমেও আলেয়া বেগমের ঘরে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। শরীরে নেই পর্যাপ্ত গরম কাপড়। রান্না করার মতো ছিল সামান্য কিছু চাল আর কয়েকটি আলু। সেগুলো দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এতেই আমার চলে যাবে।’

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নুরুল আমীন লিটন জানান, আলেয়া বেগমের ছেলে একটি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় শয্যাশায়ী। মেয়েও স্বামীহারা হয়ে নিজের সংসার নিয়ে টানাপোড়েনে আছেন। ফলে বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থায় কেউ নেই।

নীরব কষ্টের প্রতিচ্ছবি

স্থানীয়দের মতে, আলেয়া বেগমের মতো অসহায় বৃদ্ধদের জন্য সরকারি ও সামাজিক সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করায় শীত ও বর্ষায় তাঁর দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে যায়।

সবশেষে বলা যায়, অশীতিপর আলেয়া বেগমের জীবন সমাজের অবহেলা আর নিঃসঙ্গতার এক নীরব দলিল। যা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার বাস্তব চিত্র নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

তথ্য সংগ্রহ আজকের পত্রিকা

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102