বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদির মতো অলরাউন্ডার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সময়ের সেরা লেগ স্পিনার আফগানিস্তানের রশিদ খান।
বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই ইচ্ছেটার কথা জানিয়েছেন রশিদ। শুধু তৃতীয় ম্যাচেই নয়, সিরিজে দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে দুটিতেই দারুণ করেছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৫৫ রান। সেদিন রহমানউল্লাহ গুরবাজের সেঞ্চুরি সব আলো কেড়ে নিলেও রশিদের ফিফটির সুবাদেই শেষ পর্যন্ত ২৮৭ রান করতে পেরেছিল আফগানিস্তান। ম্যাচ জিতেছিল ১৬ রানে।
আর বৃহস্পতিবার তৃতীয় ওয়ানডেতে নয় নম্বরে নেমে রশিদ করেছেন ৪০ বলে ৪৮ রান। ১৬৩ রানে ৭ উইকেট হারানো আফগানরা রশিদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই শেষ পর্যন্ত ২৬৬ রান করতে পেরেছে। এরপর বোলিংয়েও দারুণ উজ্জ্বল রশিদ। ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ২৩০ রানে। ২০২৩ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে বিবেচিত ওয়ানডে সুপার লিগে তাতে ৩ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট হলো আফগানিস্তানের। সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা বাংলাদেশ (৩ ম্যাচে) ও তিনে থাকা ইংল্যান্ডেরও (৬ ম্যাচে) পয়েন্ট ৩০-ই। রানরেটে পিছিয়ে আফগানরা আছে পাঁচ নম্বরে।
ম্যাচের পরই ভবিষ্যতে নিজেকে পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে দেখতে চান কি না, প্রশ্নে ইচ্ছেটার কথা জানালেন রশিদ, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। নিজেকে আগামী দিনে অলরাউন্ডার হিসেবেই দেখি। আগেও বলেছি, আমি ক্যারিয়ার শুরু করেছি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে, কিন্তু পরে বোলিং নিয়ে বেশি কাজ করেছি। এখন আবার ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছি। অনেক দিক আছে উন্নতি আনার মতো। আগামী দিনে আমি যথাযথ একজন অলরাউন্ডার হতে চাই।’
ব্যাটিংয়ে নিচের দিকে নেমে এভাবে যদি ৩০-৪০ কিংবা ৫০ রানের ইনিংস খেলতে পারেন রশিদ, পাশাপাশি বল হাতে সব সময়ের মতো আলো ছড়াতে পারেন, আফগানিস্তানের ক্রিকেট দলের খোলনলচেই বদলে দেবে সেটি। রশিদ অবশ্য শুধু দলের প্রয়োজনে সাড়া দিতে পারলেই খুশি, ‘দলের যখনই আমাকে দরকার হবে, আমাকে তখনই ভালো খেলতে হবে। শেষের দিকে যখন আমাদের ৪০-৫০ রান দরকার হবে, তখন ক্রিজে থাকলে আমাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। হ্যাঁ, আমি নিজেকে একজন যথাযথ অলরাউন্ডার হিসেবে তৈরি করার কথা ভাবছি। আর যখনই সুযোগ পাব, সেটা ব্যাটিংয়ে আট নম্বরে হোক বা নয় নম্বরে, আমার এই মানসিকতা থাকতে হবে যে আমার দরকারি সব দক্ষতা আছে, প্রতিভা আছে, আমাকে শুধু মাঠে নেমে সেটা দেখাতে হবে।