প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ | প্রিয় বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ | প্রিয় বরিশাল
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ

বসন্তের শুরুতে গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ। এবারে দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় বিপুল পরিমাণে আমের মুকুলের সমারোহ ঘটছে। মুকুলের ভারে গাছের ডাল-পালা নুয়ে পড়ছে। ছোট-বড় গাছগুলোতে বেশি মুকুল আসতে শুরু করছে। আমের মুকুল যে পরিমাণে আসছে অনেকে মনে করছে এবার আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশালে সরেজমিনে ঘুরে দেখাতে গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এবারো আমের গাছ মুকুলে মুকলে ছেয়ে গেছে। গাছে গাছে থোকা থোকা আমের মুকুল সবার চোখ জুড়াচ্ছে। আশা জাগাচ্ছে গৃহস্থ্যসহ চাষিদের মনেও। ইতোমধ্যে সবুজ থেকে হলুদ বর্ণ ধারন করেছে আমের মুকুল। তবে এবার লাগাতার কুয়াশায় না থাকায় অনেক জায়গায়ই আমের মুকুলই ভাল হয়েছে।

তবে কৃষিবিদরা মনে করে আমের উৎপাদন ও গুণগত মানের জন্য কিছুটা অশনি সঙ্কেত বলেও মনে করছেন কৃষিবিদরা। পরিপূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে আবাদ ও উৎপাদন না হলেও দক্ষিণাঞ্চলে আম-কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফল আবাদের উপযোগী। প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ধরনের ফলের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে। সারাদেশে যে প্রায় ১০ লাখ টন আম উৎপাদন হচ্ছে, তার অন্তত দেড় লাখ টনই হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে।

ইতোমধ্যে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ‘বারি-১১’ নামের বার মাসী আম উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র কৃষি বিজ্ঞানীরা ‘বারি আমের জাত ১১’ নামে বার মাসী নতুন জাতের উদ্ভাবন করেছেন। মৌসুম ছাড়াই বছরে চার বার উন্নতমানের সুমিষ্ট আম উৎপাদনে বরিশালের সদরে ৫নং ওয়ার্ড এর পলাশপুর খামার বাড়ির সহ সদরের বিভিন্ন এলাকার অর্ধ শতাধিক কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এলাকার আরো অনেকেই এ আম চাষে ঝুকছেন।

পুরানো দিনের ফজলি, লক্ষণভোগ, হিম সাগরের পরে ল্যাংড়া আমের আবাদ আগে থেকেই প্রচলিত ছিল এ অঞ্চলে। গত দুদশকে দক্ষিণাঞ্চলে ‘আম্রপালি’ আমের আবাদ ও উৎপাদনও বেড়েছে। তবে আমসহ ফলের বাণিজ্যিক আবাদে এখনো সবচেয়ে বড় সমস্যা আবাদ এবং পরিচর্যা প্রযুক্তিসহ উন্নতমানের চারা ও কলম অপ্রতুলতা। দক্ষিণাঞ্চলে বারি উদ্ভাবিত রসালো এ ফলের চারা ও কলম চাষি পর্যায়ে পৌঁছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অঞ্চলে বারি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)’র হাতে গোনা কয়েকটি নার্সারি থাকলেও তার খোঁজ বেশিরভাগ মানুষই জানে না। বারি’র মতে, পাকা আমে যথেষ্ট পরিমাণ ক্যারোটিন ও ভিটামিন-এ এবং খনিজ থাকে। এমনকি ভিটামিন-এ’র দিক থেকে আমের অবস্থান বিশ্বের সব ফলের ওপরে। এমনকি স্বাদ-গন্ধ, পুষ্টিমান ও ব্যবহার বৈচিত্রে আম এখনো তুলনাহীন বলে দাবি পুষ্টিবিদদের। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রায় ২০টি উন্নতমান, স্বাদ ও উচ্চ ফলনশীল আমের জাত উদ্ভাবন করেছে।

এ সবের মধ্যে ‘মহানন্দা’ বা বারি আম-১, বারি আম-২, আম পালি বা বারি আম-৩, হাইব্রিড আম বা বারি আম-৪, বারি আম-৫, বারি আম-৬, বারি আম-৭, বারি আম-৮, কাঁচা মিঠা বা বারি আম-৯ অন্যতম। বারি উদ্ভাবিত এসব আমের ওজন দেড়শ’ গ্রাম থেকে ২৭০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এসব আমের ফলন হেক্টর প্রতি ২৫ টন।

মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, আবাদ ও উৎপাদন উপযোগী জলবায়ুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলকে আম আবাদের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আর সে লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠ কর্মীদের উদাসীনতা পরিহার করে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অধিকতর গুরুত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আম গাছে রোগ হলে টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে দুই-তিন বছর বয়সের গাছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম, চার-পাঁচ বছর বয়সের গাছে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, ছয়-সাত বছর বয়সের গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম, আট-নয় বছর বয়সের গাছে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম এবং ১০ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৫০ থেকে এক হাজার ২০০ গ্রাম প্রতি গাছে এ গুলো ব্যবহার করতে হবে। ফুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুষ্পমঞ্জরিতে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। তাই রিপকর্ড এবং কেবিএস জয় ব্যবহার করতে পারেন।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার এচিং জানান, এ সময় বাগানে হপার এবং ফুদকী পোকাগুলো গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকে। এ ধরনের পোকা খুব বেশি দেখা দিলে সালফার নাশক স্প্রে করতে হবে।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102