মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, বাসা-বাড়িতে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি এবং রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
দাপ্তরিক নথিতে ‘অভ্যাসগত অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও এই কর্মকর্তার বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই জসীম উদ্দীন মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন।
রিফিউজি কলোনির ‘গাঁজা সম্রাট’ রফিকসহ নগরীর চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া, মাদকসহ আটকের পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেওয়া বা নামমাত্র মাদক দেখিয়ে মামলা দেওয়ার অসংখ্য ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে।
নথিতে ‘অভ্যাসগত অপরাধী’, শাস্তি শুধু পদাবনতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে তিনটি বিভাগীয় মামলা (মামলা নং যথাক্রমে- ১৯/২০১৯, ১২৩/২০২১ এবং ০৫/২০২৪) হয়েছে।
শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তা ও জব্দ মাদক বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত না করে তিন ধাপ পদাবনতি দিয়ে বরিশালে বদলি করা হয়।
বরিশালে নতুন ত্রাস: অর্থ না দিলেই মামলা
বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোড ও গোরস্থান রোড এলাকায় সাম্প্রতিক অভিযানে মাদক না পেয়েও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
লুৎফর রহমান সড়কের এক ফেনসিডিল বিক্রেতাকে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং পলাশপুরে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পর ৪ লাখ টাকায় রফা করে মাত্র ২ কেজি দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
প্রশাসনিকভাবে বারবার শাস্তি পেয়েও জসীম উদ্দীনের আচরণে কোনো পরিবর্তন না আসায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
মাদক নির্মূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এই ‘মাদক-বন্ধু’ সুলভ আচরণ পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।