মানবপাচার আইনে করা মামলায় বরিশালের ছেলে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (২৪ মার্চ) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা নতুন এ দিন ধার্য করেন।
বহু বাংলাদেশি নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার এবং জোর করে আটক রেখে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে গত ২ জুলাই মূলহোতা আজম খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মৃণাল কান্তি শাহ।
মামলার আসামিরা হলেন- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড (২৬), স্বপন হোসেন (২৮), আজম খান (৪৫), নাজিম (৩৬), এরশাদ ও নির্মল দাস (এজেন্ট), আলমগীর, আমান (এজেন্ট) ও শুভ (এজেন্ট)।
পরে এই মামলায় গ্রেফতার দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের নাম উঠে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি রোববার (২১ মার্চ) হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
উল্লেখ্য, দুবাই পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে আজম খানসহ নারী পাচারকারীচক্রের ৫সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চক্রটি মূলত নৃত্যকেন্দ্রিক। কয়েকজন নৃত্যসংগঠক ও শিল্পী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন নাচের ক্লাব বা সংগঠন থেকে মেয়েদের সংগ্রহ করে কাজ দেয়ার নামে দুবাই পাঠান। পরে দুবাইয়ের হোটেল ও ড্যান্সবারে তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করতো।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ড্যান্স বারের আড়ালে নারী পাচারের অভিযোগে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করা হয়।
পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ইভানের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ইভানকে কারাগারে পাঠান আদালত। পরদিন তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর হয়।