নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ডেন্টাল ওয়ার্ডের মেশিনের নতুন যন্ত্রপাতি ৬ বছর যাবত পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ বছর পড়ে থাকার কারনে যন্ত্রপাতিগুলোতে মরিচা ধরেছে। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দাঁতের ২টি এক্স-রে মেশিন বিকল। এক্স-রে মেশিন চালু থাকলে ১০০-১৫০ জন রোগীর পরীক্ষা করা সম্ভব ছিল।কিন্তু এখন কোন মেশিন না থাকার কারনে রিপোর্ট শূন্য ওই ওয়ার্ড। এখানে জেনারেল অপারেশন থিয়েটার(ওটি) নেই। আবার মিনি ওটি থাকলেও তা দখলে নেই। মিনি ওটিতে পুরাতন কাগজপত্র ফেলে রাখা হয়েছে। ডায়াথার্ম ও স্ক্যালিং মেশিন নেই। ওয়ার্ডে যেসব মেশিন রয়েছে সেখানেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। এ্যানেস্থিক ল্যাব,টেকনোলজিষ্ট ছাড়াও শিক্ষকদের জন্যও কোন রুম নেই। রয়েছে জনবল সঙ্কট । শুধুমাত্র একজন অফিস সহকারী এই ওয়ার্ডে কর্মরত রয়েছে।
এদিকে ডেন্টাল ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা বিএম কলেজের ছাত্রী তাজকেরা ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন যাবত আমার দাঁত থেকে রক্ত পড়ছে।ভর্তিও হয়েছিলাম হাসপাতালে।চিকিৎসক স্কালিং করতে বলেছেন। স্কালিং মেশিন নষ্ট হওয়ার কারনে তা সম্ভব হয়নি।এখন বাহির থেকে করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। আর টাকার অভাবে দাঁতের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।’হাসপাতাল ফেরত আরেক রোগী মাহবুব হোসেন বলেন,গত ২৫ রমজান থেকে আমার দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ছে। মাঝে হাসপাতালের ডেন্টাল ওয়ার্ডে আমি চিকিৎসাধীনও ছিলাম। সেই সময় স্কালিং মেশিন বিকল হওয়ার অযুহাতে আমাকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করা হয়েছে।টাকার অভাবে স্কালিং না করায় এখন পর্যন্ত আমার দাঁত থেকে রক্ত পড়ছে।’
বিষয়টি নিয়ে সাক্ষাতে কথা হলে সহকারী অধ্যাপক ও ডেন্টাল ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান ডা.শাহরিয়ার বলেন, ডেন্টাল ওয়ার্ডে পরিচালক ৬ টি ইউনিটের ব্যবস্থা করেছেন। তার সময়ে অত্র ওয়ার্ডে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে যন্ত্রপাতি নিয়ে কোনরকম কথা বলতে রাজি হয় নি।
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা.মো.বাকির হোসেন এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।’