নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগের আটটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সব কটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশালের গৌরনদীরত টানা তিনবার মেয়র হয়ে হ্যাট্রিক করলেন হারিছুর রহমান হারিছ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নানের তুলনায় ৩৪ গুণ ভোট পেয়েছেন তিনি।
সহকারী রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে হারিছুর রহমান পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৭২ এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান পেয়েছেন ৬৭৯ ভোট।
এর আগে শনিবার বিকেল তিনটায় গৌরনদীর নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জন করেন শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির এজেন্ট বের করে দেয়া, ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট রেখে নৌকা মার্কায় জোর করে সিল মারা হয়েছে।
এছাড়া, টানা দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হন বরগুনার পাথরঘাটার আনোয়ার হোসেন আকন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকের মাহাবুবুর রহমান খান পেয়েছেন ২ হাজার ২৩২ ভোট।
বরগুনায় ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ। তার সাথে ভোটের মাঠে তীব্র লড়াই করেও ৬ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে হার মানতে হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনকে। সেখানে কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বরগুনা সরকারি কলেজে ১ নম্বর কেন্দ্রের ৬, ৭, ৮ নম্বর বুথ থেকে তাদের আটক করা হয়।
এছাড়া, নলছিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহেদ খান (১৪ হাজার ৫৬৪ ভোট), মেহেন্দীগঞ্জে কামাল উদ্দিন খান (১০ হাজার ১৫১ ভোট), স্বরূপকাঠিতে গোলাম কবির (তিন হাজার ৯৫২) ভোলার বোরহানউদ্দিনে রফিকুল ইসলাম (৭,১৯৪ ভোট) এবং দৌলতখানে জাকির হোসেন তালুকদার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপর মনিরুজ্জামান কবির পেয়েছেন ৬৬২ ভোট। জাকির হোসেনও টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হলেন।
এর মধ্যে ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে দৌলতখানের একটি কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই এজেন্ট এবং জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে বোরহানউদ্দিন থেকে ৬ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে একজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, বিরোধী অনেক প্রার্থীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। তাই ঝালকাঠির নলছিটিতে কেন্দ্র দখল, অনিয়ম ও ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট কেড়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী কে এম মাছুদ খান ও বিএনপির প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান।
তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার স্তরের নিরাপত্তার মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।