রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি এবং ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে বঙ্গভবনের সামনে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপরই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ অ্যাকশনে গেলে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন। একই সঙ্গে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিকসহ পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি
ঘটনার সময় আহত সাংবাদিকসহ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শ্যামপুর বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বিশাল (২৪), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী আরিফ খান (২০), হকার শফিকুল ইসলাম (৪৫), বার্তা২৪-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাজু আহমেদ (২৫) এবং ভিডিও জার্নালিস্ট রিপন রেজা (২৮)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের পায়ে আঘাত এবং দুজনের কানে সাউন্ডের প্রভাবজনিত সমস্যা রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ
আহত সাংবাদিক রাজু আহমেদ বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে হঠাৎ করে কে বা কারা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন আহত হন।
একই ধরনের অভিযোগ করেন আহত হকার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে।
পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ
এদিকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ায় বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে রাষ্ট্রপতির ভবনের দিকে যাওয়ার সময় ওয়ালটন মোড়ে পুলিশের একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। পরে আহত পুলিশ সদস্যরা মতিঝিল থানায় আশ্রয় নেন।
নিরাপত্তা জোরদার, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা






