বরিশালে মাদক ব্যবসার নতুন কৌশল, গডফাদারদের ধরতে অভিযান জোরদার
বরিশালে মাদক ব্যবসার ধরণ দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে। মাদক কারবারিরা এলাকা ও ক্যাম্পাস ভিত্তিক ব্যবসায় নতুন কৌশল গ্রহণ করছে, ফলে মূল গডফাদারদের গ্রেপ্তার করা এখনো চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ছে ইয়াবা ও গাঁজা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে সর্বাধিক ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হচ্ছে। এছাড়া ফেনসিডিল, জি-মরফিন ইনজেকশন ও মদ জাতীয় দ্রব্যও ধরা পড়ছে। মাঝে মাঝে আইস উদ্ধার হওয়াও নজর এড়াচ্ছে না।
মাদক পরিবহনের ধরন ও চ্যালেঞ্জ
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বরিশালে কোনো সীমান্ত এলাকা না থাকায় বড় ধরনের মাদক চালান সীমান্ত এলাকার তুলনায় ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। মাদকপ্রবাহ সাধারণত নৌ ও সড়ক পথে সমানভাবে প্রবেশ করে, তবে সম্প্রতি সড়কপথের ওপর জোর বেশি।
এছাড়া, যারা ধরা পড়ছে তারা সাধারণত মাদক বহনকারীরা, যারা মূল সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। তারা চেইন মেইনটেইন করার কারণে মূল কারবারি বা গডফাদারের নাম জানে না বা প্রকাশ করে না। একাধিক মোবাইল নম্বর ও পদ্ধতি ব্যবহার করে, মূল কারবারিরা ধরা পড়ার বাইরে থাকে।
আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান জানিয়েছেন, আগে নৌপথে বেশি মাদক আসতো, এখন সড়কপথে। গত এক বছরে ৩৪০ কেজি গাঁজা ও ৯৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে মূল গডফাদারদের গ্রেপ্তার এখনো চ্যালেঞ্জ।
বরিশাল জেলা পুলিশের সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আমরা মূলত মাদকবহনকারী ও ক্ষুদ্র কারবারিদেরই ধরতে পেরেছি। এবার মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের নতুন পরিকল্পনা
বরিশাল জেলার পুলিশ অনুসারে, ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪,২২৫ জন মাদক মামলার আসামি রয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রায় ১,০০০ জন। সম্প্রতি নতুনভাবে তাদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত এবং সমাজকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।”
জনপুলিশিং ও সামাজিক দায়িত্ব
পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “সমাজকে ভালো রাখতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ও মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনপুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। সাধারণ নাগরিকদেরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”
এভাবে বরিশালে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।






