বরিশালের ভাটার খাল বস্তিতে সংঘর্ষ: আহত ১২, আটক ৬
বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ভাটার খাল বস্তিতে সোমবার দুপুর ও বিকেলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারি ঘটেছে। ঘটনায় দু’পক্ষের মোট ১২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ আটক করেছে বিএনপির সমর্থক ৬ জনকে।
বস্তির কনফিগারেশন ও নিরাপত্তা
প্রায় ২০০টিরও বেশি ঘর সংবলিত এই বস্তিতে ১৫-২০টি সরু গলি আছে, যা ‘চুলের ফিতার মতো’ পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি গলিতে স্থানীয় নেতারা নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন। এর ফলে বস্তির প্রতিটি বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনা শুরু হয় দু’জন মহিলা, সুমি ও শিল্পী-এর চাপকল ব্যবহার নিয়ে কথাকাটাকাটির কারণে। এরপর একদল দুর্বৃত্ত প্রথমে সিসি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর করে। পরে বাসাবাড়িতে ঢুকে টেলিভিশন, ফ্রিজ এবং দামী আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একই দিনে সন্ধ্যায় আরও ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
সুমি অভিযোগ করেন, “এই ঝগড়া আসলে পূর্বপরিকল্পিত। মূল লক্ষ্য ছিল স্প্রীডবোট ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি সমর্থকরা ঘাট দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। যেহেতু তাদের বোট নেই, তারা প্রতিদিন চাঁদা দাবি করছে।”
লুটপাটের পরিমাণ ও প্রভাব
স্থানীয় স্প্রীডবোট মালিক রোশনি জানান, অভিযুক্তরা ১৫ ভরি স্বর্ণ এবং ১০ লক্ষ টাকা নগদ লুট করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসায়ী, তাই নগদ টাকা ঘরে রাখি। আমাদের ৮টি স্প্রীডবোট আছে। তারা আমাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে।”
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। বরিশাল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন মামলার তদন্ত চলছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক ঘটনা মনে হলেও, গভীরভাবে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়দের বক্তব্য
আশেপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলেন, এই বস্তি এলাকার নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতে থাকবে, সেই দলের প্রভাব ১০ নং ওয়ার্ডে বিস্তৃত হবে। এটি স্প্রীডবোট ঘাট এবং মাদকের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অতিরিক্ত তথ্যের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।






