বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতা-কর্মী হামলায় ১৮ জন আ.লীগ নেতা কারাগারে
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া সহ ১৮ জন নেতাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
জামিন আবেদন বাতিল
বুধবার (১৩ নভেম্বর) বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ তানভীর তাদের জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। আদালতের জিআরও এএসআই নূর মোহাম্মাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে প্রেরিত অন্যান্য আসামিরা
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মাসুদ আলম খান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আকন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান, পৌর যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার জিয়াউর রহমান রিপন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর সুজন চন্দ্র দেবনাথ, হাফিজুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা মাহফুজ মুসুল্লি, নূরুল আমিন মাহাবুব, সৈয়দ আরিফুর রহমান, পরিতোষ, লিটন গাজী, আবদুল কুদ্দুস নান্টু, সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার, সোহেল রানা, শফিক ডাকুয়া, পংকজ ও ইকবাল তালুকদার।
হামলার ঘটনা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে গত ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট গারুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। বিকেল ৫টার দিকে দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের বাড়ির সামনে ২৫০-৩০০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী জড়ো হওয়ার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন অস্ত্র, ধারালো দা, রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে হঠাৎ হামলা চালায়।
এই হামলায় রাস্তায় চলাচলরত ইজিবাইক, অটো রিক্সা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি দোকান লুটপাটসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। হামলাকারীরা বিএনপির ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে আহত করে এবং নগদ টাকা ও মোবাইলসহ ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
মামলার অভিযোগ ও দায়ের
এই ঘটনার পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হাসান সিকদার বাদী হয়ে ৭ নভেম্বর রাতে নামধারী ৯০ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।
অতএব, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার তদন্ত চলছে।






