প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে কাগাশুরায় গোপন নথি সন্দেহে আটক ট্রাক, বের হয় পুরনো কাগজপত্র কাগাশুরায় গোপন নথি সন্দেহে আটক ট্রাক, বের হয় পুরনো কাগজপত্র
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

বরিশালে আটক দুই ট্রাকে নথির বিষয়ে যা জানা গেল!

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
নথি

কাগাশুরায় গোপন নথি সন্দেহে আটক ট্রাক, পরে জানা যায় পুরনো কাগজপত্র

সদর উপজেলার কাগাশুরা গ্রামের স্থানীয়রা সন্দেহজনকভাবে দুটি ট্রাক আটক করেছেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে ট্রাকগুলিতে সচিবালয়ের গোপন নথি আছে। পরে খবর দেওয়া হয় কাউনিয়া থানায়। পুলিশ এসে ট্রাক দুটি আটক করে।

যাচাই-বাছাই করার পর জানা যায়, ট্রাকগুলিতে সচিবালয়ের কোনো গোপন নথি নেই। বরং বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (EEID) পুরনো কাগজপত্র ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ট্রাক দুটি আবার ইইডি অফিসে নিয়ে আসে।

পুরনো কাগজপত্র ধ্বংসের নিয়ম ও কমিটি

বরিশাল ইইডি অফিসের সূত্র জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী পুরনো কাগজপত্র ধ্বংস করার জন্য ২৫ নভেম্বর একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যার আহ্বায়ক ছিলেন সহকারি প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আফজাল হোসেন। সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সহিদুর রহমান।

কমিটি ১৯৮৯ সাল থেকে রক্ষিত পুরনো ও বাতিল কাগজপত্র ধ্বংসের সুপারিশ করে। এই কাগজপত্রের মধ্যে ছিল বিভিন্ন সময়ের পত্রিকা, দরপত্রের নোটিশ ইত্যাদি।

অফিস আদেশ এবং ধ্বংসের প্রক্রিয়া

সূত্র জানায়, ১৫ ডিসেম্বর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসব কাগজপত্র ধ্বংসের জন্য বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম অফিস আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, সহকারি প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আফজাল হোসেন এবং উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. ইউসূফকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কাগজপত্র পুড়িয়ে ধ্বংস করে নিম্নস্বাকরকারীর নিকট প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের সন্দেহ ও ঘটনার প্রকৃতি

নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, বিধি মোতাবেক ধ্বংসের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরনো কাগজপত্র, অফিসের ভাঙা আসবাব ও অন্যান্য মালামাল ধ্বংসের জন্য কাউনিয়া এলাকার ময়লাখোলায় পাঠানো হয়েছিল।

তবে ট্রাকচালক ও ভাড়াটে শ্রমিক কাগজপত্র বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। তাই তারা নির্দেশিত স্থানে না গিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ জন্মে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশি ব্যবস্থা ও ট্রাক হস্তান্তর

কাউনিয়া থানা–পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এলাকার লোকজন ট্রাক দুটি আটক করে। পরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাকগুলো তাদের জিম্মায় ছাড়েন। নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লিখিত বিবরণী দিয়ে ট্রাক দুটি উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, নিয়ম ও প্রক্রিয়ার অজানার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। পরিষ্কার যোগাযোগ এবং স্বচ্ছতা জনমনে আস্থা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102